Site icon দৈনিক নবদিগন্ত

চালক সংকটে ৬ মাস বন্ধ কয়রা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স, বাড়ছে রোগীদের দুর্ভোগ

চালক সংকটে ৬ মাস বন্ধ কয়রা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স, বাড়ছে রোগীদের দুর্ভোগ

মো: আল-মাহফুজ শাওনঃ

চালক সংকটের কারণে টানা ছয় মাস ধরে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুটি অ্যাম্বুলেন্স গ্যারেজে পড়ে রয়েছে। এতে জরুরি রোগী পরিবহনে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, একমাত্র চালক মোঃ আব্দুল মজিদকে দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করার পর থেকে নতুন কোনো চালক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফলে অ্যাম্বুলেন্স দুটি অচল হয়ে পড়ে আছে। বর্তমানে সীমিত পরিসরে সেবা দিতে আউটসোর্সিং ভিত্তিতে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ড্রাইভারকে ব্যবহার করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

এদিকে, জাইকার অর্থায়নে পাওয়া আরও একটি অ্যাম্বুলেন্স দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় গ্যারেজে পড়ে রয়েছে। গাড়ির চালক ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ের ব্যবস্থা না থাকায় সেটিও চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, উপজেলা সদর থেকে হাসপাতালের দূরত্ব ১৪ কিলোমিটার এবং দক্ষিণ বেদকাশী থেকে প্রায় ৩৪ কিলোমিটার। তাই জনস্বার্থে জাইকার অ্যাম্বুলেন্সটি উপজেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে সদরে রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যাতে জরুরি সেবা সহজলভ্য হয়।

উপজেলা ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরামের সভাপতি রাসেল আহাম্মেদ বলেন, “দরিদ্র রোগীদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কিংবা জেলা সদর হাসপাতালে যেতে হয়, যা প্রায় ১১০ কিলোমিটার দূরে। এ অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্সই একমাত্র ভরসা। কিন্তু চালক না থাকায় গাড়িগুলো গ্যারেজে পড়ে থাকায় মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছে।”

ভুক্তভোগীরা জানান, অ্যাম্বুলেন্সগুলো সচল থাকলে কম খরচে দ্রুত চিকিৎসা সেবা পাওয়া যেত। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে চালক সংকটের কারণে গাড়িগুলো অকেজো থাকায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, “আগে এখানে অ্যাম্বুলেন্সের চালক ছিল, তবে বদলির পর প্রায় ছয় মাসেও নতুন কাউকে পদায়ন করা হয়নি।”

খুলনা স্বাস্থ্য বিভাগের উপ-পরিচালক ডা. মোঃ মুজিবুর রহমান জানান, “অনেক চালক অবসরে যাওয়ায় খুলনার কয়েকটি উপজেলায় চালক সংকট তৈরি হয়েছে। অন্য জেলায় নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হলেও খুলনায় কিছু জটিলতার কারণে এখনো শুরু হয়নি। তবে দ্রুত সমাধানে আমরা কাজ করছি এবং কয়রার মতো দুর্গম এলাকায় বিশেষ বিবেচনায় চালক দেওয়ার চেষ্টা থাকবে।”

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত চালক নিয়োগ দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স সেবা সচল করা না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।

Exit mobile version