Site icon দৈনিক নবদিগন্ত

খুলনার ১৪৫তম জন্মদিন আজ: বর্ণাঢ্য আয়োজন, সম্মাননা পাচ্ছেন গুণীজনরা

খুলনার ১৪৫তম জন্মদিন আজ: বর্ণাঢ্য আয়োজন, সম্মাননা পাচ্ছেন গুণীজনরা

মো: আল-মাহফুজ শাওনঃ

দক্ষিণ জনপদের ঐতিহ্যবাহী জেলা খুলনার ১৪৫তম জন্মদিন আজ (শনিবার)। দিবসটি উপলক্ষে জেলা জুড়ে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। সকাল ১০টায় শিববাড়ি মোড় থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করেছে বৃহত্তর উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটি। এছাড়া দুপুরে থাকছে ঐতিহ্যবাহী মেজবানি অনুষ্ঠান। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

ঐতিহাসিক তথ্যমতে, ১৮৩৬ সালে রূপসা নদীর পূর্বপাড়ে তালিমপুর-রহিমনগরের সন্নিকটে কিসমত খুলনা মৌজায় ‘নয়াবাদ’ নামে একটি থানা স্থাপনের মধ্য দিয়ে প্রশাসনিক কাঠামোর সূচনা হয়। এর আগে এ অঞ্চলের থানা ছিল যশোর জেলার মুড়লীতে। পরে ১৮৪২ সালে খুলনা মহকুমার যাত্রা শুরু হয়, যা দেশের প্রথম মহকুমা হিসেবে পরিচিত। এর প্রথম ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন ইংরেজ কর্মকর্তা এম.এ.জি. শো।

ইতিহাসের আরেক অধ্যায়ে, নীলকর উইলিয়াম রেনি এ অঞ্চলে শাসন পরিচালনা করেন এবং অত্যাচারী শাসক হিসেবে পরিচিতি পান। পরবর্তীতে ১৮৮২ সালে খুলনা জেলা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। এর আগে ১৮৪২ সালে খুলনা সদর, ১৮৬১ সালে সাতক্ষীরা এবং ১৮৬৩ সালে বাগেরহাট মহকুমা গঠিত হয়। সে সময় খুলনা জেলার আয়তন ছিল প্রায় ৪ হাজার ৬৩০ বর্গমাইল এবং জনসংখ্যা ছিল ৪৩ হাজার ৫০০। জেলার প্রথম জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন ইংরেজ ডব্লিউ. এম. ক্লে।

স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসেও খুলনার রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ১৯৭১ সালের ১৭ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কবল থেকে মুক্ত হয় এ জনপদ। পরবর্তীতে ১৯৮৪ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট পৃথক জেলা হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

এবারের খুলনা দিবসে আকর্ষণীয় আয়োজন হিসেবে রাখা হয়েছে গুণীজনদের সম্মাননা প্রদান। সম্মাননা পাচ্ছেন ভাষা সংগ্রামী বেগম মাজেদা আলী, সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোঃ এনায়েত আলী, শিক্ষাবিদ প্রফেসর জাফর ইমাম, অধ্যক্ষ মোহাম্মাদ মাজহারুল হান্নান, প্রফেসর হারুন অর রশিদ, পাট ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নান এবং প্রকৌশলী আজাদুল হক।

দিবসটি ঘিরে খুলনাবাসীর মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে জেলার গৌরবময় ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে স্মরণ করা হচ্ছে।

Exit mobile version