বাগেরহাট প্রতিনিধি:
বিভিন্ন প্রতিকূলতার কারণে মোংলা বন্দরের পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা। তবে বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি বন্দরের প্রায় ১০০ একর জায়গায় শিল্প-কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা জানান তিনি।
মোংলা বন্দরের চেয়ারম্যান বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম অনেকটাই সমুদ্রবন্দরনির্ভর। দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য একটি মাত্র বন্দরের ওপর নির্ভরশীল থাকা ঝুঁকিপূর্ণ। এ কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের পাশাপাশি মোংলা ও অন্যান্য সমুদ্রবন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, মোংলা বন্দরের সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগাতে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এছাড়া বন্দরের আশপাশে শিল্প-কারখানা স্থাপনের সুযোগ তৈরি হলে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
চেয়ারম্যান আরও বলেন, দেশের অন্যান্য বন্দরেও উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম ও মাতারবাড়ী বন্দরের পাশাপাশি মোংলা বন্দরের অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়ানো গেলে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে বিকল্প ও শক্তিশালী সমুদ্রবন্দর ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।
বন্দরের প্রায় ১০০ একর জমিতে বিভিন্ন শিল্প-কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব শিল্প স্থাপিত হলে বন্দরের সঙ্গে শিল্প ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের সরাসরি সংযোগ তৈরি হবে। এতে বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আসার পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
মতবিনিময় সভায় মোংলা বন্দরের চলমান উন্নয়ন প্রকল্প, সাম্প্রতিক অর্জন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।