মালিকুজ্জামান কাকা:
থমথমে ইত্যা গ্রাম। বিএনপি সমর্থীতদের দোকান পাট সোমবার পর্যন্ত বন্ধ। জামায়াতের দখলে বাজার। বহিরাগতরা জামায়াতের পক্ষে বাজারে অবস্থান করছে। পুলিশ দোকান খুলতে কোন ভূমিকা রাখছে না বলে বিএনপির নেতা কর্মীরা অভিযোগ করেছেন।
বিএনপির নেতা কর্মীরা জানান, শনিবার ঘটনার পর রবিবার বিএনপি সমর্থীতরা দোকান খুলতে গেলে তাদের মারধোর করে দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়। হাসমতের ছেলে করিম, রজব আলীর ছেলে লিটন, সামাদের ছেলে মনিরুল, রমজানের ছেলে আলাউদ্দিন দোকান বন্ধ করে রেখেছে। রবিবার সন্ধ্যা রাতে সুমন ও দাউদ দোকান খুললেও উল্লেখিতরা দোকান বন্ধ করে দেয়। এসময় পুলিশ দেখলেও নিশ্চুপ ছিল। বরং ইত্যার বিট পুলিশ কর্তা এস আই অভিযুক্তদের সাথে বসে বসে চা পান করছিলেন। অভিযুক্ত অন্যরা হলেন, সাখাওয়াত হোসেনের ছেলে তাজ উদ্দীন, সাহা জামালের ছেলে সামছুর রহমান রপিতা, রফিকের ছেলে নুর ইসলাম, মনু মিয়ার ছেলে হান্নান, সায়েদের ছেলে ইমরান, আলম হোসেনের ছেলে সোহেল ছাড়াও অজ্ঞাত অনেকেই। এসব অভিযুক্তরা নাসির উদ্দিনের দোকানের আড়াই মন মাংসসহ অনেক কিছু লুট করে। সন্ত্রাসীরা সাদেকর খোঁজার নামে হায়দারের বাড়ি ভাঙচুর করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বিএনপির স্থানীয় নেতা কর্মীরা অভিযোগ করেন কার্যত মনে হয়েছে এস আই তুহিনের মদদে এত দুঃসাহস দেখাচ্ছে জামায়াত কর্মীরা। তারা বাইরে থেকে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ভাড়া করে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব চালু করেছে। এবিষয়ে নেতৃবৃন্দ সরকারের বিদ্যুৎ জ্বালানী ও খনিজ প্রতিমন্ত্রী বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা অনিনদ্য ইসলাম অমিতের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তরিকুল, আজহার, সবুর, দাউদ, সুমন, বুলবুল, সফিয়ার ডাক্তার, হাফিজুরের দোকান বন্ধ রয়েছে। অভিযোগ দেওয়া হলেও পুলিশ এখনো পর্যন্ত একজনকে আটক করেনি। উল্টো অভিযুক্তরা বাজারে বসে খোশ গল্পে মেতে থাকছে পুলিশের সাথে মর্মে বিএনপির নেতা কর্মীরা অভিযোগ করেছেন। বিএনপি সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক মাস্টার বলেন, অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে পুলিশ এখানে জামায়াতের সমর্থন করছে। তারা দ্বন্দ্ব মীমাংসায় কোন উদ্যোগ এখনো পর্যন্ত নেয়নি। যা সাধারণ গ্রামবাসীকে হতাশ করেছে।
আঞ্চলিক বিএনপির নেতা কর্মীরা বলেন জামায়াত সমর্থীতরা এলাকায় বহিরাগত সন্ত্রাসী এনে জড়ো করেছে। বাজারে শতাধিক লোক থাকছে। এদের বেশিরভাগ বাইরের এলাকার। এসব বহিরাগত দুইজনকে অস্ত্রসহ পুলিশের কাছে সোর্পদ করা হয়। এর পরেই তারা এখন আরো বেপরোয়া। তা। তারা এখনো অস্ত্র বল্লম, গাছিদা, রামদা, লাথি, রড, ক্রিজ, আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ইত্যা বাজারে অবস্থান করছে। বিএনপির কেউ বাজারে উঠতে পারছে না। কার্যত তারা গ্রামে অবরুদ্ধ দশায় রয়েছে।
যশোরের মনিরামপুরের গ্রামে প্রেমঘটিত বিষয় নিয়ে স্থানীয় সালিশ বৈঠক চলাকালে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এই উপজেলার ২ নম্বর কাশিমনগর ইউনিয়নের ইত্যা বাজারে এই সংঘর্ষ হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইত্যা গ্রামের বাজারে একটি প্রেমঘটিত বিষয় সমাধানের জন্য স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠক চলাকালে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষে বিএনপি সমর্থিত কয়েকজন এবং অপরপক্ষের ৩০ থেকে ৪০ জন ব্যক্তি জড়িয়ে পড়েন।
সংঘর্ষে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত পক্ষের ফজলুর রহমান (৪৫), আশরাফুল (৩৫) ও শামসুল হক (৩৬) আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। এদিকে এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মধ্যে জোর আতঙ্ক রয়েছে। সোমবার বাজারে জামায়াত সমর্থীতদের বাজারে অবস্থান করতে দেখা যায়। বাজার থেকে দূরে গ্রামবাসী অনেককেই আতঙ্কে থাকতে দেখা যায়। তাদের চোখ মুখে আতঙ্ক স্পষ্ট দেখা গেছে এসময়।
জামায়াত ইসলামীর নেতা কর্মীরা এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করেননি।
মনিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু সাইদ জানান, ঘটনা সত্য। তিন দিন আগে প্রেমঘটিত একটি বিষয় সমাধানের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে সালিশ আয়োজন করা হয়। দুই পক্ষ বিভক্তি হয়ে এই সংঘর্ষ। উভয় পক্ষের লোকজনই আহত হয়েছে। কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ মাঠে রয়েছে।