প্রিন্ট এর তারিখ: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬, ১০:৫০ পি.এম. || প্রকাশের তারিখ: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬, ৯:১২ পি.এম.

কয়রায় অনলাইন জুয়ার মাস্টার এজেন্ট সামাদের সম্পদবৃদ্ধি নিয়ে অভিযোগ

‎এসকে এম মহসিন রেজা ,উপজেলা প্রতিনিধি (খুলনা) :

‎খুলনার কয়রা উপজেলায় ব্র্যাকের চাকরি ছেড়ে অনলাইন জুয়ার মাস্টার এজেন্ট হিসেবে কাজ করে অল্প সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে আব্দুস সামাদ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, জুয়ার লেনদেনের মাধ্যমে উপার্জিত অবৈধ অর্থে তিনি বিভিন্ন স্থানে জমি কিনেছেন এবং পুরোনো ঘরের জায়গায় গড়ে তুলেছেন দৃষ্টিনন্দন পাকা ভবন।

‎অভিযোগের তালিকায় থাকা আব্দুস সামাদ কয়রা উপজেলার উত্তর মদিনাবাদ ফুলতলা গ্রামের মজিবার রহমান গাজীর ছেলে। তিনি পূর্বে ব্র্যাকে কর্মরত থাকলেও পরবর্তীতে চাকরি ছেড়ে অনলাইন জুয়ার একটি প্ল্যাটফর্মের মাস্টার এজেন্ট হিসেবে যুক্ত হন।

‎সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আব্দুস সামাদের জুয়ার অর্থ লেনদেন সংক্রান্ত একটি অডিও কথোপকথন ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ওই অডিওতে তাঁকে এক জুয়ার গ্রাহকের সঙ্গে টাকা লেনদেনের বিষয়ে কথা বলতে শোনা যায়। কয়রা খবর-এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আব্দুস সামাদ তাঁর ০১৯৩৯৬০৭১৪৫ নম্বরটি ব্যবহার করে অনলাইন জুয়ার যাবতীয় লেনদেন ও যোগাযোগ পরিচালনা করতেন।

‎স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক বছর আগেও সামাদের বাড়িতে টিনের ঘর ছিল, কিন্তু বর্তমানে সেখানে আলিশান পাকা ভবন তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় তাঁর জমি কেনার খবরও পাওয়া গেছে। এসব সম্পদের পেছনে জুয়ার অবৈধ উপার্জনের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে বলে তাঁদের দাবি।

‎ফুলতলা বাজারের এক চা ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়রা খবর-কে বলেন, “তিনি জুয়ার মাস্টার এজেন্ট ছিলেন এবং আমার দোকানে বসেও লেনদেন করতেন। তবে বর্তমানে তিনি এই কাজে যুক্ত আছেন কি না, তা আমার জানা নেই।”

‎অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে আব্দুস সামাদ কয়রা খবর-কে বলেন, “আমি মাস্টার এজেন্ট ছিলাম, তবে এখন আর কাজ করি না। আমার যা আয় করার, তা করেছি। এখন কাজ বন্ধ করে দিয়েছি।”

‎এলাকার বেশ কয়েকজন ক্ষতিগ্রস্ত তরুণ অভিযোগ করেন, সামাদের প্রলোভনে ও তাঁর নির্ধারিত এজেন্টদের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ায় যুক্ত হয়ে তাঁরা সর্বস্ব হারিয়েছেন। এমনকি অনেকে আর্থিকভাবে দেউলিয়া হয়ে মাদকের মতো মারাত্মক আসক্তিতে জড়িয়ে পড়েছেন। বর্তমানে কোনো নিয়মিত চাকরি বা দৃশ্যমান ব্যবসা না থাকলেও সামাদ নেপথ্যে থেকে জুয়ার এজেন্ট নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছেন বলে স্থানীয়রা দাবি জানান।

‎আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিষয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ, সামাদকে পূর্বে দুই দফায় আটক করা হলেও অজ্ঞাত কারণে মোটা অঙ্কের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

‎সার্বিক বিষয়ে কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদুল আলম কয়রা খবর-কে জানান, ডিআইজি ও পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশে এলাকাকে জুয়া ও মাদকমুক্ত করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, “আমি এক মাস হলো কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার পর জুয়ার ঘটনায় চারটি মামলা গ্রহণ করেছি। অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”

এলাকাবাসীর দাবি, অনলাইন জুয়ার মূল উপড়ে ফেলতে কেবল খুচরা এজেন্টদের নয়, সামাদের মতো মাস্টার এজেন্ট ও তাঁদের অর্থ লেনদেনের পুরো নেটওয়ার্ক তদন্তের আওতায় আনা জরুরি।