এসকে এম মহসিন রেজা, উপজেলা প্রতিনিধি (খুলনা):
বিয়ের আনন্দের রেশ তখনো কাটেনি। মাত্র এক মাস একদিন আগে নতুন জীবনের শুরু করেছিলেন মো. খালিদ হাসান (২৫)। স্বপ্ন ছিল স্ত্রীকে নিয়ে সাজাবেন সংসার। কিন্তু সেই সংসার শুরুর মাত্র ৩১ দিনের মাথায় শ্বশুরবাড়ির একটি ঘরেই থেমে গেল তাঁর জীবন।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে খুলনার কয়রা উপজেলার সদর ইউনিয়নের গোবরা গ্রামে শ্বশুরবাড়ির শোবার ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁ/স দেওয়া অবস্থায় খালিদকে দেখতে পান তাঁর স্ত্রী সানজিদা খাতুন। দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় জানালা দিয়ে উঁকি দিয়েই স্বামীর ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান তিনি। মুহূর্তেই তাঁর চিৎকারে ভারী হয়ে ওঠে বাড়ির পরিবেশ।
স্থানীয়রা ছুটে এসে খালিদকে নামিয়ে দ্রুত চিকিৎসার জন্য নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই পথেই তাঁর মৃ/ত্যু হয়। যে বাড়িতে এক মাস আগে বিয়ের আয়োজন হয়েছিল, সেখানেই রাতের নীরবতায় নেমে আসে শোকের ছায়া।
নি/হত খালিদ হাসান কয়রা সদর ইউনিয়নের ৩ নম্বর কয়রা গ্রামের মো. রহিম সরদারের ছেলে। মাত্র ১ মাস ১ দিন আগে গোবরা গ্রামের তৈয়ব আলীর মেয়ে সানজিদা খাতুনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল।
খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে যায় কয়রা থানা-পুলিশ। পুলিশ ম/রদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ম/র্গে পাঠায়।
কয়রা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রাশেদুল আলম জানান, এ ঘটনায় শনিবার বেলা ১১টার দিকে নিহতের বাবা বাদী হয়ে থানায় একটি অপমৃ/ত্যু মামলা (ইউডি) করেছেন। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশ তদন্ত করছে।
বিয়ের মাত্র এক মাসের মাথায় এমন মৃ/ত্যুতে স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে নেমে এসেছে শোক। তবে কী কারণে খালিদ এমন চরম সিদ্ধান্ত নিলেন, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা। ঘটনার পেছনের কারণ খুঁজে বের করতে তদন্তের দিকেই তাকিয়ে পরিবার ও স্থানীয়রা।