নরসিংদী সদর উপজেলার সাহেপ্রতাপ এলাকায় ভোজ্যতেল উৎপাদন ও বাজারজাতকারী একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন নিয়মভঙ্গের জন্য ৩ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করা হয়েছে।
২৪ আগস্ট ২০২৬ রোজ সোমবার দুপুরে বিএসটিআই আঞ্চলিক কার্যালয়, নরসিংদীর উদ্যোগে পরিচালিত মোবাইল কোর্টে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে সাহেপ্রতাপ এলাকার এন এস কো ফুড অ্যান্ড কনজ্যুমার লিমিটেড প্রতিষ্ঠানে ভোজ্যতেল পরিমাপে কারচুপিসহ বিভিন্ন অসঙ্গতি ধরা পড়ে। বিএসটিআই সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি ফর্টিফায়েড সয়াবিন তেলের প্রতি ১ হাজার ৮০০ মিলিলিটারে ৬০ মিলিলিটার এবং প্রতি ৯০০ মিলিলিটারে ৪০ মিলিলিটার করে কম দেয়।
তার अलावा বিএসটিআইয়ের গুণগত মান সনদ ছাড়াই ‘রুপালী ইলিশ’, ‘রুপালী চান্দা’ ও ‘পুষ্প’ ব্র্যান্ডের নামে তেল বিক্রি ও বিতরণ হচ্ছিল। চারটি ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নাম একই ঠিকানা ব্যবহার করে ফর্টিফায়েড সয়াবিন তেল মোড়কজাত ও বাজারজাতের প্রমাণও পাওয়া যায়।
অভিযানে আরও দেখা যায়, পণ্য মোড়কজাত বিধিমালা লঙ্ঘন করে ৪৫০, ৯০০, ১ হাজার ৮০০ ও ৪ হাজার ৫০০ মিলিলিটার আকারের বোতলে তেল মোড়কজাত ও বিক্রি করা হচ্ছিল। একই সঙ্গে তেলে নির্ধারিত মাত্রায় ভিটামিন ‘এ’ সংযোজন না করা, বিএসটিআইয়ের গুণগত মান সনদ ছাড়াই লেবেলে বিএসটিআই স্ট্যান্ডার্ড চিহ্ন ব্যবহার এবং মোড়কজাতকরণ নিবন্ধন সনদ ছাড়া পণ্য উৎপাদন, বিক্রি ও বিতরণের মতো অপরাধও ধরা পড়ে। এসব অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে বিএসটিআই আইন, ২০১৮ অনুযায়ী ২ লাখ টাকা এবং ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন, ২০১৮ অনুযায়ী আরও ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। সব মিলিয়ে ৩ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করা হয়। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটিকে মোড়কজাতকরণ নিবন্ধন সনদ ও সিএম লাইসেন্স গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন বিএসটিআই প্রধান কার্যালয়, ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুল ইসলাম। অভিযানে সহযোগিতা করেন বিএসটিআই আঞ্চলিক কার্যালয়, নরসিংদীর উপপরিচালক (মেট্রোলজি) ও অফিস প্রধান মোহাম্মদ শফিকুল আলম এবং সহকারী পরিচালক (সিএম) নিখিল রায়।
প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ফিল্ড অফিসার (সিএম) এ এফ এম হাসিবুল হাসান এবং পরিদর্শক (মেট্রোলজি) আরিফ হোসেন আসিফ। বিএসটিআই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং পণ্যের মান নিশ্চিত করতে এ ধরনের মোবাইল কোর্ট ও বাজার তদারকি কার্যক্রম আগামীতে চালিয়ে যাবে।