খুলনার কয়রার উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নে জমি নিয়ে বিরোধ ও পানি নিষ্কাশনের ড্রেন দখলকে কেন্দ্র করে আব্দুল্লাহ আল মামুন (২৪) নামের এক যুবককে মারধর করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ এসেছে।
তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কয়রা দক্ষিণ থানা শাখার প্রাক্তন সভাপতি এবং বর্তমানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সাথে জড়িত বলে জানা গেছে।
শারীরিক স্বাস্থ্য খারাপ হলে তাকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত বাবা-ছেলেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ আগস্ট দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের পাথরখালী এলাকার কোবাদ সরদারের ভিটার পিছনের জমিতে এ ঘটনাটি ঘটে। আহত আব্দুল্লাহ ওই এলাকার আবু তালেব গাজীর ছেলে।
আব্দুল্লাহর ভাই আসমাতুল্লাহ অভিযোগ করেছেন, তাদের জমির এক পাশে পানি নিষ্কাশনের ড্রেন ছিল। পাশে থাকা জমির মালিক জাহাঙ্গীর ওরফে ইয়ার আলী ও তার সহকালীরা ড্রেনটি ভরাট করে সমান করে ফেলে। পরে তাদের জমির অংশের সঙ্গে মিলে ধান রোপণ করে ঘেরাটোপ দেওয়া হয়।
আব্দুল্লাহ এতে বাধা দিলে কথাবার্তার এক পর্যায়ে জাহাঙ্গীরের ছেলে মেহেদী হাসান পিছন থেকে তার মাথায় জোরে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
হামলার পর স্থানীয়রা গুরুতর আহত আব্দুল্লাহকে প্রথমে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার খারাপ হলে তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সেখানে আরও অবস্থা খারাপ হলে দ্রুত ঢাকায় রেফার করা হয়। বর্তমানে ঢামেক হাসপাতালে সংকটজনক অবস্থায় তার চিকিৎসা চলছে।
এ ঘটনায় আব্দুল্লাহর দুলাভাই রবিউল ইসলাম বাদী হয়ে কয়রা থানায় মামলা করেন। মামলার আসামি মেহেদী হাসান চিকিৎসার জন্য খুলনার জায়গীর মহল হাসপাতালে গেলে পুলিশ তাকে সেখান থেকে গ্রেপ্তার করে। অন্য আসামি জাহাঙ্গীর (ইয়ার আলী) মোল্লাকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
কয়রা থানার ওসি (তদন্ত) হাসানুজ্জামান জানান, জমি নিয়ে হামলার ঘটনায় লিখিত মামলা হয়েছে। মামলার ভিত্তিতে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনগত পরবর্তী প্রক্রিয়া চলছে।