প্রিন্ট এর তারিখ: আগস্ট ৩১, ২০২৬, ৮:৫২ পি.এম. || প্রকাশের তারিখ: আগস্ট ২১, ২০২৬, ১২:০৮ এ.এম.

শ্যামনগরে কৃষকের দুই পাওয়ার ট্রিলার পুকুরে ফেলে ক্ষতির অভিযোগ

রাকিবুল হাসান, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধিঃ

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ধুমঘাট মঠের চকে কৃষকের চাষাবাদে ব্যবহৃত দুটি পাওয়ার ট্রিলার পূর্ব শত্রুতার কারণে বিলের পুকুরে ফেলে ক্ষতি করার অভিযোগ উঠেছে। ১৯ শে আগষ্ট (বুধবার) ভুক্তভোগী পশ্চিম ধুমঘাট গ্রামের সন্তোষ কুমার মন্ডলের পুত্র প্রকাশ চন্দ্র মন্ডল বাদী হয়ে একই এলাকার রবী মন্ডলের পুত্র জগদীশ মন্ডল, গৌরপদ মন্ডলের পুত্র জয়দেব মন্ডল, পতিরাম মন্ডলের পুত্র প্রদীপ মন্ডল, শিবপদ মন্ডলের পুত্র মিলন মন্ডলসহ অজ্ঞাতনামা ২/৩ জনের বিরুদ্ধে শ্যামনগর থানায় লিখিত অভিযোগ প্রদান করেছেন।

অভিযোগে প্রকাশ চন্দ্র মন্ডল উল্লেখ করেন, জগদীশ, জয়দেব, প্রদীপ ও মিলন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য এবং মাদক সেবনকারী। এর আগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে তাদের বিরুদ্ধে সিআর ২২৭/২৫ নং মামলা করা হয়েছে।

মামলা নিয়ে আসামীরা প্রকাশকে বিভিন্নভাবে ক্ষতি করার চেষ্টা চালাচ্ছে। ১৯ শে আগষ্ট রাত ২ টার দিকে প্রকাশ ও তার স্ত্রী দীপালি প্রতিদিনের মতো পাওয়ার ট্রিলার দিয়ে চাষাবাদের জন্য বিলে যান। তখন তারা দেখতে পান জগদীশ, জয়দেব, প্রদীপ, মিলনসহ ২/৩ জন তাদের দুটি পাওয়ার ট্রিলারের যন্ত্রাংশ খুলে নিয়েছে এবং পাওয়ার ট্রিলার দুটি পুকুরে ফেলেছে। অস্ত্র থাকায় প্রকাশ ও তার স্ত্রী তাদের কাছে যেতে পারেননি। বিষয়টি জানাজানি হলে ২০ শে আগষ্ট সকালে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পাওয়ার ট্রিলার দুটি বিলের পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়।

এই বিষয়ে প্রকাশ মন্ডল বলেন, আমি একজন গরীব কৃষক। অনেক কষ্টে দুটি পাওয়ার ট্রিলার কিনেছি এবং স্ত্রীকে নিয়ে ধুমঘাট মাঠসহ বিভিন্ন পুকুরে ধান চাষাবাদ করি। পূর্ব শত্রুতার কারণে জগদীশ, জয়দেব, প্রদীপ ও মিলন আমার ক্ষতি করছে। আমার আনুমানিক আশি হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া দুই দিন চাষাবাদ করতে না পারায় অন্য কৃষকও সমস্যায় পড়েছে। আমি বিষয়টি নিয়ে শ্যামনগর থানায় অভিযোগ করেছি।

এই বিষয়ে প্রাক্তন ইউ,পি সদস্য মোঃ সাইদুল ইসলাম বলেন, এটি খুবই দুঃখজনক। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করব, যে কেউ যারা এই ঘটনায় জড়িত তাদের তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

এই বিষয়ে অভিযুক্ত জগদীশ বলেন, আমরা ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানি না। আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। প্রকাশের সাথে আমাদের একটি মামলা চলমান। আমাদেরকে নতুন করে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

এই বিষয়ে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।