প্রিন্ট এর তারিখ: অক্টোবর ২০, ২০২৬, ৭:২৬ এ.এম. || প্রকাশের তারিখ: আগস্ট ১৮, ২০২৬, ১:৩৬ পি.এম.

শ্যামনগরের কৈখালী ভূমি অফিসের জরাজীর্ণ ভবনেই চলছে কার্যক্রম

রাকিবুল হাসান, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি :

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ভূমি অফিসের ভবনটি বেশ কিছু সময় ধরে খুব খারাপ অবস্থায় আছে। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকলেও এই বিপজ্জনক ভবনের মধ্যে প্রতিদিন চলছে গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক কার্যক্রম। তাই কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং প্রতিদিন আসা শত শত সেবাগ্রহীতাকে বেশ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের দেয়ালের কিছু অংশের প্লাস্টার খসে পড়ছে। বর্ষাকালে ভবনের চাল থেকে পানি সরতে থাকায় গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, বালাম বই এবং কম্পিউটারসহ বিভিন্ন সরকারি সরঞ্জাম নষ্ট হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং দরজা-জানলাগুলোও খারাপ অবস্থায় রয়েছে।

সামান্য বৃষ্টি হলেই অফিসের আশপাশে পানি জমে যায়, তখন চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। নিরাপদ পরিবেশ না থাকার ফলে এবং চাল থেকে পানি পড়ার কারণে বহু বছরের পুরনো গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও বালাম বই নস্ট হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

যদি এগুলো নষ্ট হয়, তাহলে এলাকার সাধারণ মানুষ স্থায়ীভাবে বড় ধরনের ভূমি বিরোধের সম্মুখীন হতে পারে বলে অনেকেই মনে করছেন। ভূমি অফিসে এসে সারাক্ষণ ভয়ের মধ্যে থাকতে হয়, কখন দেওয়াল পড়ে যাবে। আর একটু বৃষ্টি হলেই অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। এত রাজস্ব সংগ্রহ হয় এই অফিস থেকে, অথচ ভবনের এই অবস্থা!

অফিস থেকে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব সরকারের কোষাগারে যায়। কিন্তু ভবনটি সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণের কোন উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। ভাঙা ছাদের নিচে জীবনযাত্রার ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন কাজ করতে হয় অফিসের কর্মীদের এবং সেবা নিতে আসা গ্রাহকদের।

এ বিষয়ে ৮ নং ওয়ার্ড ইউ,পি সদস্য মো: আব্দুল হামিদ লাল্টু বলেন, কৈখালী ভূমি অফিসের জরাজীর্ণ অবস্থা। বহু বছর ধরে ভবনটি অবহেলিত রয়েছে। এখানে কৈখালী ও রমজাননগর ইউনিয়নের সকল মানুষের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংরক্ষিত থাকে। ভবনের খারাপ অবস্থার কারণে আমরা সব সময় চিন্তায় থাকি। দ্রুত ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

এ বিষয়ে শ্যামনগর আতরজান মহিলা কলেজের প্রভাষক মো: ওমর ফারুক বলেন, কৈখালী ভূমি অফিসে রমজাননগর ও কৈখালী ইউনিয়নের সকল মানুষের ভূমি সংক্রান্ত কাগজপত্র সংরক্ষিত থাকে। অফিসটির খারাপ অবস্থা। দেওয়াল ধসে পড়ছে। আমাদের ঝুঁকির মধ্যে সেবা গ্রহণ করতে হচ্ছে। অতি দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা কামনা করছি।

এ বিষয়ে কৈখালী ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো: রেজাউল ইসলাম বলেন, অফিসের জরাজীর্ণ ভবনেই চলছে আমাদের কার্যক্রম। এর মধ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে কিছু টিন পাওয়া গিয়েছিল। যা দিয়ে অফিস আংশিকভাবে সংস্কার করা হয়েছে। যা জানি খুব শিগগির নতুন ভবনের কাজ শুরু হবে।

এ বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামসুজ্জাহান কনক এবং উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) এম, আব্দুস সামাদ বলেন, কৈখালী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নতুন ভবন নির্মাণের অনুমোদন পাওয়া গেছে। খুব দ্রুত ভবনের কাজ শুরু হবে।