খুলনার খালিশপুর থানার মুজগুন্নী উত্তরপাড়া প্যাটকা বাজার এলাকায় মাদকবিরোধী কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার এবং এলাকার মানুষের পক্ষ থেকে গণপিটিশন দেওয়াকে কেন্দ্র করে মো. আব্দুস সোবহান (৩৭) নামের এক ব্যক্তির ওপর হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ করা হয়েছে। এই ঘটনায় তিনি নিজের এবং পরিবারকে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে খালিশপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
গত ৮ আগস্ট ২০২৬ খালিশপুর থানায় করা জিডিতে আব্দুস সোবহান অভিযোগ করেছেন, এলাকার কিছু ব্যক্তি মাদক সেবন ও বিক্রির সাথে জড়িত। তাদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে তার নেতৃত্বে খালিশপুর থানায় একটি গণপিটিশন দেওয়া হয়। এই ঘটনার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে বিভিন্ন সময় তাকে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে যাচ্ছিল, বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
জিডিতে আব্দুস সোবহান আরও উল্লেখ করেছেন, গণপিটিশন দেওয়ার পর তাকে বিভিন্নভাবে বিরক্ত করা হয় এবং বাজে ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়া হয়। এতে তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ৮ আগস্ট সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে প্যাটকা বাজারের খাদিজাতুল কোবরা মসজিদের সামনে দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় কিছু ব্যক্তি পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার পথরোধ করে হামলা চালায়। এই সময় তাকে গালিগালাজ করার পাশাপাশি নানাধরনের কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে আক্রমণ করা হয় বলে জিডিতে অভিযোগ করা হয়েছে।
এক পর্যায়ে হামলাকারীদের একজন ধারালো চাপাতি হাতে নিয়ে তার দিকে হত্যার উদ্দেশ্যে এগিয়ে আসে বলেও অভিযোগ করেন আব্দুস সোবহান। তবে তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে অভিযুক্তরা হাতের অস্ত্র ফেলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে জিডিতে দাবি করা হয়েছে।
আব্দুস সোবহানের অভিযোগ, মাদকবিরোধী অবস্থান এবং এলাকাবাসীকে নিয়ে গণপিটিশন দেওয়ার কারণে অভিযুক্তরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। ভবিষ্যতে তারা তার ওপর বড় ধরনের হামলা কিংবা প্রাণনাশ ঘটানোর আশঙ্কা করছেন।
এ কারণে নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে খালিশপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন আব্দুস সোবহান।
তবে জিডিতে করা অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা, হামলার প্রকৃত কারণ এবং ঘটনায় কারা জড়িত—তা পুলিশি তদন্তের পরই নিশ্চিত হবে।
এলাকার মানুষের দাবি, মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর অভিযান জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মাদকবিরোধী অবস্থান নেওয়া সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কর্তৃপক্ষের কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করছেন তারা।