প্রিন্ট এর তারিখ: জুলাই ৩০, ২০২৬, ১২:২৭ এ.এম. || প্রকাশের তারিখ: জুলাই ২৯, ২০২৬, ১০:২৪ পি.এম.

খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণে নতুন গতি, চীনা বিনিয়োগে আশার আলো

বাগেরহাট প্রতিনিধি:

প্রায় ৩০ বছর ধরে পরিকল্পনার তালিকায় আটকে থাকা বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার খানজাহান আলী বিমানবন্দর প্রকল্পে নতুন আশার সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ অভাবে এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা এই প্রকল্প বাস্তবায়নে এবার বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে একটি চীনা প্রতিষ্ঠান। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলামের সক্রিয় উদ্যোগ ও সমন্বয়ের ফলে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে।

স্থানীয়দের আশা, বিমানবন্দরটি তৈরি হলে শুধু বাগেরহাট নয়, সমগ্র দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ, বাণিজ্য, পর্যটন এবং সমুদ্রভিত্তিক ব্লু ইকোনমি বৃদ্ধিতে নতুন সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে মোংলা বন্দরকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বেড়ে যাবে।

১৯৯৬ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া খানজাহান আলী বিমানবন্দরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরবর্তীতে তিন দফায় অনেক জমি অধিগ্রহণ হলেও প্রকল্পটি আর এগোয়নি। এত বছর ধরে সীমানা পিলার স্থাপন ও কিছু মাটি ভরাট ছাড়া কোনো কার্যকর উন্নয়ন হয়নি। ফলে স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে হতাশা বিরাজ করেছে।

এলাকাবাসীদের অভিযোগ, রাজনৈতিক বিভিন্ন কারণে প্রকল্পটি বছরের পর বছর গুরুত্ব হারিয়ে ফেলেছিল। ফলে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের বহু প্রতীক্ষিত বিমানবন্দর বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

আরোও পড়ুন

দেনমোহর পরিশোধের শর্তে খোলা তালাকের আপোষ, চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে বিতর্ক

তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বাগেরহাট-৩ (রামপাল-মোংলা) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রকল্পটি নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন স্তরে উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা চলছে।

এই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি চীনের একটি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি দল বিমানবন্দরের নির্ধারিত এলাকা পরিদর্শন করেছে। তারা প্রকল্পের সম্ভাবনা যাচাই করেছেন এবং নির্মাণকাজে আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন বলে সূত্র জানায়।

চীনা প্রতিনিধি দলের সদস্য মি. পিটার বলেছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তারা এটির জন্য আগ্রহী।

খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল আলম বলেছেন, এই বিমানবন্দর বাস্তবায়িত হলে খুলনা ও বাগেরহাট অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন গতি আসবে। তাই তারা দ্রুত প্রকল্পটির বাস্তবায়ন দেখতে চান।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, দীর্ঘ সময়ের স্থবিরতা কাটিয়ে বিমানবন্দর প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। বিমানবন্দর চালু হলে মোংলা বন্দর, ইকোনমিক জোন, পর্যটন শিল্প এবং দক্ষিণ অঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন হবে বলে তিনি আশাবাদী।

দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে থাকা বিশাল এই ভূমি এখন নতুন সম্ভাবনার প্রতীক হতে চলেছে। স্থানীয়রা মনে করেন, দ্রুত প্রকল্পটির বাস্তবায়ন হলে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন সহ কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ এবং শিল্পায়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।