রাত হয়েছে। চারপাশে শান্তি। খুলনা রেলস্টেশনের মেঝেতে যাত্রীরা চলাফেরা করলেও সবার নজর এড়িয়ে এক কোণে মার্বেল টাইলসের ওপর ঘুমিয়ে আছে ৪-৫ বছরের একটি শিশু। মাথার নিচে নেই কোন বালিশ, গায়ে নেই কোন চাদর বা কাপড়। পরনে শুধু একটি হাফ প্যান্ট।
শিশুটির পাশে কিছুক্ষণ আগে একটি কালো কুকুরও শুয়ে ছিল। মশার সমস্যা যেখানে কিছুক্ষণ বসে থাকা কঠিন, সেখানে শিশুটি যেন সবকিছু ভুলে গভীর ঘুমে আছে।
ঘটনাটি খুলনা রেলস্টেশনে বিশেষ কারণে অবস্থানরত একজন প্রত্যক্ষদর্শীর দৃষ্টিতে আসে। শিশুটির অসহায় অবস্থার চিত্র যে কারো হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার মতো। জীবনের বাস্তবতা যেন এই চিত্রে প্রকাশ পেয়েছে।
একদিকে কেউ বিলাসবহুল প্রাসাদে জীবন কাটায়, আর অন্যদিকে কিছু শিশু রাত্রি কাটায় খোলা মেঝেতে, কখনো স্টেশনে, কখনো ফুটপাতে। কারো মাথার নিচে নরম বালিশ, শরীরে উষ্ণ কম্বল; আবার কারো জন্য ঠান্ডা মার্বেল টাইলসই রাতের বিছানা।
| রাজবাড়ীতে সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিকের ওপর হামলা, আহত আরও কয়েকজন |
আল্লাহ তায়ালা মানুষের জীবনে কতই না বৈসাদৃশ্য রেখেছেন—কাউকে দিয়েছেন রাজপ্রাসাদ, আর কাউকে রেখেছেন খোলা আকাশের নিচে, মাটি ও কাঁদা-পানির কঠোর বাস্তবতায়।
খুলনা রেলস্টেশনের মেঝেতে ঘুমানো শিশুটির ছবি কেবল একটি ছবি নয়; এটি আমাদের সমাজের বৈষম্য, দারিদ্র্য ও অসহায় মানুষের জীবনের একটি কঠিন বাস্তবতার প্রতিফলন। শিশুটির মতো আরও কত শিশু প্রতিদিন এমন রাতে কাটায়, তার পরিমাণ হয়তো কারো কাছে নেই।
এই দৃশ্য আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—শিশুরা দয়া নয়, তাদের অধিকার নিয়ে বাঁচার সুযোগ প্রাপ্য। সমাজের বিত্তবান মানুষ, মানবিক সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি এসব অসহায় শিশুর সহায়তায় এগিয়ে আসে, তাহলে হয়তো কোনো শিশুকে আর রেলস্টেশনের মার্বেল মেঝেতে বিছানা বানিয়ে ঘুমাতে হবে না।