প্রিন্ট এর তারিখ: সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬, ২:১৪ এ.এম. || প্রকাশের তারিখ: জুলাই ২৪, ২০২৬, ৯:১৮ পি.এম.

মনিরামপুর থেকে দিনে দুপুরে মাছ স্যালো নৌকা মালামাল লুট থানায় অভিযোগ

মালিকুজ্জামান কাকাঃ

যশোরের মনিরামপুর উপজেলার গ্রামে গত এক সপ্তাহ ধরে দুটি ঘেরে চলমান লুটপাট চলছে। ঘের দুটি হরিদাসকাঠি ইউনিয়নের কুচলিয়া গ্রামের মাঠে অবস্থিত। এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা দিনে রাতে প্রায় বিশ লাখ টাকার মাছ লুট করেছে।

একই সাথে সন্ত্রাসীরা ঘেরের নৌকা, ইঞ্জিনসহ অন্যান্য মালামাল লুট করেছে। এ বিষয়ে ঘেরের লীজ গ্রহীতা মালিক প্রশান্ত কুমার মন্ডল শুক্রবার ২৪ জুলাই মনিরামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। প্রশান্ত যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া খামার পাড়ার পুরানো মাছ চাষী ও ব্যবসায়ী। তার বাবা শ্রী রঞ্জন মন্ডল।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী বিবাদী ১) কৃষ্ণ বিশ্বাস (৩৩), পিতা হংশ বিশ্বাস ২) অনাল বিশ্বাস (৫০), পিতা মৃত সুখ লাল বিশ্বাস ৩) সুব্রত, পিতা সুখ লাল বিশ্বাস ৪) শক্তি (৫৫), পিতা রঞ্জিত রায় ৫) রনবিশ্বাস (৫৪), পিতা মৃত নিরোদ বিশ্বাস ৬) পরিমাল (৫৫), পিতা বনমালি বিশ্বাস ৭) মাজে (৫৩), পিতা অজ্ঞাত ৮) চন্দ্র (৫২), পিতা পাগল বিশ্বাস। বিবাদীরা সবাই কুচলিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও চিহ্নিত লুটপাটকারী অসামাজিক ব্যক্তি। এসব লুটপাটের সময় তাদের ৫/৭ জন অস্পষ্ট সহযোগী রয়েছে।

লিখিত অভিযোগে বাদি বিবাদীদের ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগের সন্ত্রাসী বলে দাবি করেছেন। তারা এলাকায় বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।

আরোও পড়ুন

মাদকবিরোধী মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা করল উপজেলা জামায়াতের যুব বিভাগ

প্রশান্ত কুমার মন্ডল জানিয়েছেন, মনিরামপুর থানাধীন হরিদাসকাঠি ইউনিয়নের কুচলিয়া ২নং মৌজার অন্তর্গত ২০০ বিঘার ঘের (জলাশয়) এবং পাশে লেবুগাতী মৌজার অন্তর্গত ৫৫ বিঘার একটি ঘের মালিকদের কাছ থেকে ২০২৫ সালে আট বছর মেয়াদি লিজ গ্রহণ করেন। ঐ ঘেরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের চাষ হচ্ছে।

পূর্ব বিরক্তির কারণে বিবাদীরা ঐ দুটি ঘের থেকে গায়ের জোরে মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। তারা কোন নিষেধ বা কারো বারণ মানছে না। এখানে মাছ ধরার ষড়যন্ত্র বেশ কিছুদিন ধরে চলছে অভিযুক্তদের দ্বারা। তিনি জমি মালিকদের ২১ লাখ টাকা লিজের টাকা দিয়েছেন এবং সুনামের সাথে মাছ চাষ করছেন।

পাড় ভেঙে যাওয়ায় জমি মালিকরা প্রশান্তকে ছয় মাস সময় দিয়েছেন। ঐ সময় আগামী পৌষ মাস পর্যন্ত। ঘের মালিকদের সাথে সমঝোতার পরেও বিবাদীরা ঘেরের ও মাছের ক্ষতি করার জন্য বিভিন্ন ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে।

বিবাদীরা তাদের সহযোগীদের সহায়তায় ঘের থেকে গত ৪/৫ দিন ধরে অনুমান ২০ লাখ টাকার মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। এমনকি ২৩ জুলাই সকাল আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে ঘেরে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে প্রবেশ করে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরে নিয়ে যায়।

এর পাশাপাশি ঘেরে থাকা চারটি বড় নৌকা, ৩৫টি টানা জাল, ২টি বড় শ্যালোমেশিন, হাড়ী, ব্যারেল ক্যারেটসহ মাছ ধরার অন্যান্য সরঞ্জামাদি মোট সাত লাখ টাকার মালামাল জোরপূর্বক নিয়ে গেছে। এসব ঘটনার সাক্ষী তুষার বিশ্বাস (পिता সরিঞ্জন বিশ্বাস), মোঃ সাজু হোসেন (পিতা মুত মুন্নু মিয়া) সহ আরো অনেকে।

সংবাদ পেয়ে প্রশান্ত ও তার পার্টনার ইদ্রিস আলী ঘটনাস্থলে বিবাদীদের মাছ ধরতে ও মালামাল নিয়ে যেতে দেখে নিষেধ করেছিলেন কিন্তু বিবাদীরা এসব কথায় কোন গুরুত্ব দেয়নি এবং উল্টো ঘের মালিকদের সাথে খারাপ আচরণ করে। বিবাদী লুটপাটকারীরা ঘের মালিকদের অকথ্য গালিগালাজ ও মারপিট করতে উদ্যত হয় এবং প্রকাশ্য জীবননাশের হুমকি দেয়।

লীজ চুক্তি পত্র অনুযায়ী আট বছরের চুক্তিতে ১৪০ জন জমি মালিকের স্বাক্ষর রয়েছে। এস আই অবাইদুর রহমান অভিযোগটি তদন্ত করছেন।