প্রিন্ট এর তারিখ: জুলাই ২২, ২০২৬, ৮:৫৭ পি.এম. || প্রকাশের তারিখ: জুলাই ২২, ২০২৬, ৭:০৫ পি.এম.

নড়াইলে ৩৩ হাজার ভোল্টের লাইনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ইলেকট্রনিক মিস্ত্রির মৃত্যু

নড়াইল জেলা প্রতিনিধিঃ

নড়াইলে ৩৩ হাজার ভোল্টের শক্তিশালী বিদ্যুৎ লাইনের নিচে নির্মাণকাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে আহত ইলেকট্রনিক মিস্ত্রি রজিবুল ইসলাম (৩০) পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে শেষ পর্যন্ত মারা গেছেন। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাতের দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে।

এ ঘটনায় নির্মাণকাজের নিরাপত্তা নিয়ম অনুসরণ না করা এবং অবৈধ ভবন নির্মাণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। নিহত রজিবুল ইসলাম নড়াইল সদর উপজেলার হবখালী ইউনিয়নের হৈধরখোলা গ্রামের নান্নু মোল্যার ছেলে।

পরিবারের তথ্যে জানা গেছে, গত ১৮ জুলাই নড়াইল পৌর এলাকার ভওয়াখালী গ্রামের কুয়েতপ্রবাসী খোকন শেখের বাড়িতে বৈদ্যুতিক কাজ করতে গিয়েছিল রজিবুল। কাজের সময় অসাবধানতাবশত সে ও তার সহকর্মী ওমর ফারুক ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ লাইনের সংস্পর্শে এসে গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নড়াইল সদর হাসপাতালে নেয়, সেখানের চিকিৎসক রজিবুলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি মারা যান। বুধবার সকালে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

নিহতের বড় ভাই আশরাফুল অভিযোগ করেন, বাড়ির উপর দিয়ে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ লাইন থাকলেও তার ভাইকে ঝুঁকির বিষয়টি জানানো হয়নি। নিরাপদ ব্যবস্থা নিশ্চিত না করেই কাজ করানো হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

আরোও পড়ুন

কক্সবাজারে সড়ক দুর্ঘটনায় সেনাসদস্যের মৃত্যু, বাগেরহাটে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

তবে নড়াইল বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু দারদা বলেন, উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ লাইনের নিচে কোনো নির্মাণকাজ না করার জন্য বাড়ির মালিক ও সংশ্লিষ্ট মিস্ত্রিদের আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে কাজ করায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।

নড়াইল পৌরসভার প্রশাসক মো. নাজমুল হুদা বলেন, নিয়ম বহির্ভূত ভবন নির্মাণের অভিযোগ তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের দাবি, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ লাইনের নিচে ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণ কাজ বন্ধে কার্যকর নজরদারি না থাকলে ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে