প্রিন্ট এর তারিখ: জুলাই ১৭, ২০২৬, ২:৪৪ পি.এম. || প্রকাশের তারিখ: জুলাই ১৫, ২০২৬, ৭:৪৭ পি.এম.

যশোরে আইনজীবী তুহিনের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগে হয়রানি বিষয়ক সংবাদ সম্মেলন

মালিকুজ্জামান কাকাঃ

অবৈধ প্রভাবমূলক পোস্টের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় যশোর জজ আদালতের আইনজীবী কাজী সাইফুল ইসলাম তুহিনের বিরুদ্ধে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে যশোরের প্রেস ক্লাবে শহরের বেজপাড়া পিয়ারী মোহন রোডের ভুক্তভোগী আব্দুল মামুন এবং কাজী আশরাফুল ইসলাম সুমন এই অভিযোগ জানান।

সংবাদ সম্মেলনে তারা লিখিতভাবে বলেন, অ্যাডভোকেট কাজী সাইফুল ইসলাম তুহিনের বড় মেয়ে মারিয়া মুনতাসারি ২৯ জুন তার বিদেশের অবস্থান থেকে নিজের ফেসবুক আইডি এবং ‘আমরাই যশোর পরিবার’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে মামুন ও সুমন এবং তাদের পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ছবি দিয়ে অশ্লীল ও অশোভন পোস্ট প্রকাশ করেন।

এসময় বিষয়টি চিহ্নিত হওয়ার পর ১ জুলাই তারা শহরের মুজিব সড়ক মডেল মসজিদের সামনে মারিয়ার বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। কিন্তু অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম তুহিন কথোপকথন এড়িয়ে গিয়ে পুলিশ ডাকেন ও তাদের বাসা থেকে বের করে দেন।

পরে তারা পুলিশকে মারিয়ার পোস্টের বিষয়ে জানানোর পর পুলিশ তাদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। ঘটনার পরেও মারিয়া ফেসবুকে একই রকমের পোস্ট ও মন্তব্য করতে থাকলে অবসানহীনতার কারণে ভুক্তভোগীরা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দাখিল করেন।

ভুক্তভোগীদের দাবী, পূর্বের বিরোধ এবং জিডি করার কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে অ্যাডভোকেট কাজী সাইফুল ইসলাম তুহিন ৮ জুলাই তাদের বিরুদ্ধে আদালতে ভিত্তিহীন অভিযোগে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন।

মামলায় দাবি করা হয়েছে, গত ৩০ জুন বিকালে আইনজীবী সমিতি থেকে বাড়ি ফেরার পথে রেলগেট মডেল মসজিদের সামনে মামুন ও সুমন তার পথ রোধ করে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং চাঁদা না দিলে তার স্ত্রীর ও কন্যার ক্ষতি করার হুমকি দেন। অভিযোগ করা হয় যে, চাঁদা না পেয়ে ৬ জুলাই দুপুরে লোহার রড দিয়ে ওই আইনজীবীকে মারধর করে আহত করা হয় এবং হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে মামুন ও সুমন জানিয়ে দেন, মামলায় উল্লিখিত অভিযোগগুলো সম্পূর্ণরূপে অমূলক, মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। আইনজীবী মিথ্যা তথ্যে ভিত্তিতে আমাদের সামাজিকভাবে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করছেন। এতে আমাদের এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে।

আমরা সমাজের কাছে এই মিথ্যা প্রচারের তীব্র প্রতিবাদের দাবী জানাই। প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রতি আমরা সঠিক তদন্তের মাধ্যমে এই হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা থেকে মুক্তি ও নিরাপত্তা দাবি করছি।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী দুই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সুমনের স্ত্রী অদিতি, সোহেলের স্ত্রী শিলা এবং নানী জরিনা উপস্থিত ছিলেন।