প্রিন্ট এর তারিখ: জুলাই ১৭, ২০২৬, ২:৪৪ পি.এম. || প্রকাশের তারিখ: জুলাই ১৩, ২০২৬, ৫:০৮ পি.এম.

কেএমপি’র কল্যাণ ও মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত

মো: আল-মাহফুজ শাওনঃ

অদ্য ১৩ জুলাই ২০২৬ তারিখ সকাল ০৯:৩০ ঘটিকায় নগরীর বয়রাস্থ পুলিশ লাইন্স মাল্টিপারপাস হলে কল্যাণ সভা এবং পরবর্তীতে লাউঞ্জ-২ তে মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন কেএমপি কমিশনার জনাব মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, বিপিএম-সেবা মহোদয়।

সভার শুরুতে বিগত কল্যাণ সভায় উপস্থাপিত প্রস্তাবসমূহের সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। সভায় উপস্থিত বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যদের উত্থাপিত সমষ্টিগত দাবী-দাওয়ার বিষয়গুলো পুলিশ কমিশনার মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করেন এবং সেগুলো দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসারকে নির্দেশনা প্রদান করেন।

অত:পর দীর্ঘ চাকুরী জীবন শেষে অবসরে যাওয়া ৪ জন পুলিশ সদস্য এবং ১ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে কমিশনার মহোদয় তাদের ফুলেল শুভেচ্ছা, ক্রেস্ট ও উপহার সামগ্রী প্রদান করেন। এছাড়াও খুলনা মহানগরীর আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় জুন/২০২৬ মাসে সন্তোষজনক ভূমিকা রাখায় বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যদেরকে পুরস্কৃত করেন।

কল্যাণ সভায় পুলিশ কমিশনার মহোদয় বলেন, গত মাসে একজন সাব-ইন্সপেক্টর হেদায়েতের ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য ৫০,০০০ টাকা এবং একজন বাবুর্চি অসুস্থ হওয়ায় তাকে ৫০,০০০ টাকা ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। পরবর্তীতে বিকাশ কোম্পানির সহযোগিতায় সাব-ইন্সপেক্টর হেদায়েতের জন্য ২ লক্ষ টাকার চেকের ব্যবস্থা করা হয় এবং বিকাশের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা, আমাদের সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি নাজিবুর রহমান স্যার, নিজে এসে একটি সেমিনারের মাধ্যমে সেই অর্থ হস্তান্তর করেন।

ইতোমধ্যে আরও কয়েকটি আবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে, যাতে প্রয়োজনীয় সদস্যদেরও একই ধরনের সহায়তা দেওয়া যায়। কেএমপির যেসব সদস্য চরম সমস্যায় রয়েছেন, তাদের পাশে দাঁড়াতে ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা নেওয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

কেএমপির সদস্যদের কল্যাণে আনুষ্ঠানিক সভার অপেক্ষা না করে প্রয়োজন অনুযায়ী সরাসরি উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে এবং যে কোনো সদস্য যেন সহজেই সমস্যার কথা জানাতে পারেন, সে সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে। কোন সদস্যদের ব্যক্তিগত প্রতিভা ও দক্ষতার যথাযথ মূল্যায়ন করে কেএমপির বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হবে, যাতে প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা বৃদ্ধি ও ব্যয় সাশ্রয় হয়।

এসব কাজের বিপরীতে তাদেরকে উৎসাহ যোগাতে যথাযথ পুরস্কারে পুরস্কৃত করার কথা জানান। সকল সদস্যকে ব্যক্তিগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ইউনিটের সামগ্রিক কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে কোনো পুলিশ সদস্যের যোগসাজশ বরদাশত করা হবে না এবং প্রথমে কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে মানবিক, সেবামূলক ও দায়িত্বশীল পুলিশিং নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মাদকের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযান পরিচালনা, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে থানা, ফাঁড়ি ও ডিবিসহ সব ইউনিটকে কার্যকর ভূমিকা পালনের নির্দেশনা দেন এবং যারা মাদক থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান, তাদের সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে মানবাধিকার, আইনের শাসন ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, তদন্ত কর্মকর্তা ও সিনিয়র অফিসারদের এসব নির্দেশনা অধস্তন সদস্যদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কল্যাণসভা শেষে দুপুর ১১.৩০ ঘটিকায় বয়রাস্থ পুলিশ লাইন্স লাউঞ্জ-২ তে কেএমপি’র জনাব এম, এম শাকিলুজ্জামান, ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (সদর দপ্তর, অতিঃ দায়িত্বে এফএন্ডবি) অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত এবং অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ক্রাইম এন্ড অপস্ (ভারপ্রাপ্ত) এর সঞ্চালনায় মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অপরাধ পর্যালোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন কেএমপি’র পুলিশ কমিশনার জনাব মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, বিপিএম-সেবা মহোদয়। সভায় পুলিশ কমিশনার মহোদয় খুলনা মহানগরীর সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণসহ বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা প্রদান করেন।

এসময় জনাব মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ খালেদ, পিপিএম-সেবা, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক অ্যান্ড প্রটোকল, অতিঃ দায়িত্বে এ্যাডমিন এন্ড ফিন্যান্স) সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-সহ বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।