মো: আল-মাহফুজ শাওনঃ
খুলনা মহানগরীর সদর থানার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কে প্লাস্টিকের বস্তাবন্দী অবস্থায় উদ্ধার হওয়া এক কিশোরীর মরদেহের পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর তদন্তে নতুন রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিচয় নিশ্চিত হলেও তার পিতা-মাতার রহস্যজনক আচরণ ও নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় তাদের ভূমিকা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছে পুলিশ।
বুধবার (৮ জুলাই) রাত আনুমানিক ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে স্থানীয়দের দেওয়া সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে একটি সাততলা ভবনের সামনে থেকে প্লাস্টিকের বস্তার ভেতরে থাকা কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
খুলনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, প্রথমদিকে মরদেহটির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে তদন্তের একপর্যায়ে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত হয়। নিহত নির্ঝরা (১৭) নগরীর ৮৯ নম্বর বসুপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং মো. আলীম হোসেনের মেয়ে।
পুলিশ জানায়, নির্ঝরার বাবা মো. আলীম হোসেন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে গিয়ে মরদেহটি নিজের মেয়ের বলে শনাক্ত করেন। তবে পরবর্তীতে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ তাদের বাসায় গেলে সেটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। এ সময় নিহতের বাবা-মায়ের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি, যা তদন্তে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা, নির্ঝরাকে অন্য কোনো স্থানে হত্যা করে তার মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে প্রান্তিকা আবাসিক এলাকায় এনে ফেলে রাখা হয়েছে। কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে, কারা এ ঘটনায় জড়িত এবং কীভাবে মরদেহ ঘটনাস্থলে আনা হয়েছে—এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট। পাশাপাশি মরদেহ উদ্ধারের স্থান, আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ, সম্ভাব্য সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং নিহতের পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের ভাষ্য, তদন্তের স্বার্থে কোনো সম্ভাবনাকেই উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। নিহতের বাবা-মায়ের রহস্যজনক অনুপস্থিতির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে অনুসন্ধান করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।