এম. টি রহমান মাহমুদ, গোপালগঞ্জ:
গোপালগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ১০ শয্যার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে। তবে উদ্বোধনের দিনই জানা গেছে, প্রতিষ্ঠিত ১০টি আইসিইউ বেডের মধ্যে ৯টি বর্তমানে অকেজো রয়েছে। ফলে আপাতত কার্যক্রম শুরু হয়েছে শুধু একটি বেডের মাধ্যমে।
রবিবার সকালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ডা. সাখাওয়াত হোসেন ঢাকা থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে দেশের ১০টি জেলার সঙ্গে গোপালগঞ্জের আইসিইউ ইউনিটের উদ্বোধন করেন।
গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর ফিতা কেটে আইসিইউ ইউনিটের উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আবু সাইদ মোহাম্মদ ফারুক, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জীবিতেষ বিশ্বাস, আইসিইউ ইউনিটের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ডা. সাফিকুল ইসলাম সিকদার, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেন হিরা, গোপালগঞ্জ সাংবাদিক ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম রহমান মাহমুদ, টিভি সাংবাদিকদের সভাপতি আজিজুর রহমান রনি এবং অন্যান্য বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক ও হাসপাতালের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, পূর্ববর্তী সরকারের সময় ২০২৩ সালে এর কার্যক্রম শুরু হলেও এটি কখনো চালু হয়নি! গোপালগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ১০টি আইসিইউ বেড স্থাপন করা হলে ও দক্ষ জনশক্তি, প্রশিক্ষিত চিকিৎসক এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনার অভাবে ইউনিটটি কার্যকর হয়নি। বর্তমান সরকারের উদ্যোগে প্রায় চার বছর পরে আইসিইউ ইউনিটটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হলো।
তবে উদ্বোধনের দিনেই বাস্তব চিত্র প্রকাশিত হলো। স্থাপিত ১০টি বেডের মধ্যে ৯টি বিভিন্ন যান্ত্রিক সমস্যার কারণে অকেজো অবস্থায় রয়েছে। এই কারণে একমাত্র একটি বেড চালু রেখে প্রাথমিক সেবা কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এই আসল চিত্র প্রকাশিত হলে ডা. বাবর বলেন, আমি যখন সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলাম, তখনই তিনি জানান নয়টি অকেজো। মাত্র একটি কাজ করছে! এমপি মহোদয় হতবাক।
এটা কি পূর্ববর্তী সরকারের উন্নয়ন..?
মানুষের জীবন নিয়ে যারা খেলা করে, তারা কি আসলেই মানুষ?
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর বলেন, “পূর্ববর্তী সময়ে বিভিন্ন অনিয়ম এবং কেনাকাটায় দুর্নীতির কারণে আইসিইউ ইউনিটটি দীর্ঘদিনের জন্য চালু করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে যেসব বেড অকেজো রয়েছে, সেগুলো দ্রুত মেরামত ও সচল করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংস্কার, রক্ষণাবেক্ষণ এবং জনবল নিয়োগ সম্পন্ন হলে দ্রতি সময়ে সম্পূর্ণ ১০ শয্যার আইসিইউ ইউনিট স্বাভাবিক অবস্থায় চালু করা সম্ভব হবে। এর ফলে গোপালগঞ্জ এবং পার্শ্ববর্তী জেলার গুরুতর রোগীরা উন্নত চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ পাবেন।
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘ অপেক্ষার পর আইসিইউ ইউনিট চালু হওয়াটা একটি ইতিবাচক উদ্যোগ হলেও, সব বেড দ্রুত সচল না হলে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া অসম্ভব হবে। ডা. বাবর দুঃখ প্রকাশ করে বললেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বাস্থ্য মন্ত্রী শেখ সেলিম গোপালগঞ্জ জেলার প্রেক্ষাপটে এই দুঃখজনক চিত্র দেখে লজ্জিত হয়েছেন! এই দুঃখ কাদের?
এখানে আরেকটি বিষয় উল্লেখ করা অত্যন্ত জরুরি! সাবেক তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ অসিত মল্লিক এই ক্রয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গোপালগঞ্জ জেলা, যদি আমরা নিজেদেরই দুর্নীতি করি! তাহলে লজ্জা কার? ডাঃ বাবর জানান যে দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর আজ আবার শুভ উদ্বোধন হয়েছে, কিন্তু ১০টি বেডের মধ্যে ৯টি ব্যবহারের অযোগ্য! এলাকার সাধারন মানুষ বলেন, কেবল হাসপাতাল নয়, জেলার অন্যান্য উন্নয়নের অর্থও কার পকেটে আছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের কাছে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি জানান তারা!
দুর্নীতির চক্রে গোপালগঞ্জের নাগরিকরা। গোপালগঞ্জের বাসিন্দারা মনে করেন, আজ নিজেদের জেলা থেকে এমপি পেয়ে তারা সত্যিই খুশি। তিনি একজন সাধারণ ব্যক্তি হিসেবে ইতোমধ্যে সকলের নজর কেড়েছেন।
তিনি সবার সাথে মিলে একটি দুর্নীতিমুক্ত গোপালগঞ্জ গড়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আমরা একটি পরিচ্ছন্ন ও পরিষ্কার গোপালগঞ্জ গড়ব।

