Site icon দৈনিক নবদিগন্ত

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের ঘোষণা

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের ঘোষণা

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের ঘোষণা

স্টাফ রিপোর্টার, কিশোরগঞ্জঃ

কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল ম্যানেজিং কমিটি (এসএমসি) নির্বাচন সংক্রান্ত অনিয়ম, অস্বচ্ছতা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। নির্বাচনের প্রক্রিয়ার মধ্যে একজন প্রার্থীকে বাদ দেওয়ার, মনোনয়নপত্র বাতিলের তথ্য গোপন রাখার ও আপিলের সুযোগ না দেওয়ার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষের কাছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী মোঃ জোনায়েদ হোসেন জুয়েল, যিনি বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী মাহাদি হোসেন আবাদ-এর অভিভাবক, অভিযোগে উল্লেখ করেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই স্বচ্ছতার অভাব ছিল এবং একটি নির্দিষ্ট পক্ষের সুবিধার্থে পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হয়েছে।

অভিযোগের তথ্য অনুসারে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং-৩৮.০০.০০০০.০০০.০৮.৯৯.০০০৪.২০-১২৬, তারিখ: ১৬ মার্চ ২০২৬ অনুযায়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির অভিভাবক সদস্য নির্বাচন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যা দুইজন পুরুষ ও দুইজন মহিলা সদস্য অন্তর্ভুক্ত করে।

এই প্রেক্ষাপটে, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তার জারিকৃত স্মারক নং-৩৮.০১.৪৮৪৯.০০০.০২.০৯৯.২৬-৩৯০, তারিখ: ১৪ মে ২০২৬ অনুযায়ী কিশোরগঞ্জ সদর রেলওয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য নির্বাচনের সময়সীমা ঘোষণা করা হয়। এ সময়সীমার আওতায় ১৮ ও ১৯ মে মনোনয়নপত্র বিতরণের কথা ছিল।

তবে, অভিযোগকারী জানান, ঘোষিত সময়সীমা থাকা সত্ত্বেও নির্বাচন বিষয়ে তথ্য শুধুমাত্র ১৯ই মে একদিনের জন্য ফরম বিতরণের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়। এর ফলে যথাযথভাবে সকল অভিভাবকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পৌঁছাতে পারেনি। এর ফলে অনেক অভিভাবক মনোনয়নপত্র সংগ্রহ এবং নির্বাচনে অংশগ্রহনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন।

তিনি জানান, নির্ধারিত ৩০০ টাকা ফি পরিশোধ করে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেন। পরে অন্যান্য প্রার্থীদের মাধ্যমে জানতে পারেন যে নির্বাচনের অংশ হিসেবে অতিরিক্ত ৫ হাজার টাকা জমা দিতে হবে। বিষয়টি জানার পর, তিনি সেই অর্থও জমা দেন। কিন্তু অর্থ গ্রহণের সময় কিংবা তার পূর্বে তাকে জানানো হয়নি যে তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে নির্বাচন সম্পর্কে খোঁজ নিতে গেলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মৌখিকভাবে তার মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার বিষয়টি জানান। তবে বাতিলের কারণ লিখিতভাবে জানানো হয়নি এবং নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী আপিলের সুযোগের বিষয়েও তাকে অবহিত করা হয়নি।

অভিযোগকারী দাবি করেন যে তিনি একজন প্রার্থী হিসেবে সুষ্ঠু নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তার মতে, মনোনয়নপত্র বাতিলের ক্ষেত্রে লিখিতভাবে কারণ জানানো এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিলের সুযোগ দেয়া বাধ্যতামূলক ছিল।

অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, পূর্ব নির্ধারিত একটি কমিটি গঠনের লক্ষ্যে নির্বাচন পরিচালনা করা হয়েছে এবং বিভিন্ন কৌশলের মাধ্যমে ভিন্নমতাবলম্বী প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে দূরে রাখা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিছু অভিভাবকও নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেছেন। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একই প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করায় বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রধান শিক্ষকের একক প্রভাব তৈরি হয়েছে এবং এসএমসি নির্বাচনের প্রক্রিয়াতেও তার প্রতিফলন ফুটে উঠেছে।

এদিকে, নির্বাচন সংক্রান্ত অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপনের পর প্রধান শিক্ষক তার মোবাইল ফোনে একটি বার্তা পাঠিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন জোনায়েদ হোসেন জুয়েল। তিনি ওই বার্তাকে অসম্মানজনক উল্লেখ করে বলেন, একজন অভিভাবক হিসেবে বিদ্যালয়ের সম্পর্কে প্রশ্ন তোলার অধিকার তার আছে। কিন্তু তার প্রশ্নের সঠিক উত্তর না দিয়ে বরং তাকে হেয় করার চেষ্টা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, “আজ আমি অভিযোগটি পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তবে অভিযোগের ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের মন্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের প্রচেষ্টা করার পরেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে জানানো হবে।

সচেতন ব্যক্তিদের দাবি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি নির্বাচন সংক্রান্ত যে অভিযোগ এসেছে, সেটির দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত করে পর্যালোচনা করা হোক। একইসঙ্গে যদি কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হয়, তাহলে সেই সঙ্গে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করানো উচিত।

Exit mobile version