মোঃ রিয়াদ, রূপগঞ্জ প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ভূলতা গাউছিয়া অঞ্চলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পায়ের পথ ও সড়ক দখলমুক্ত করার জন্য প্রশাসন বছরের পর বছর ধরে অভিযান চালালেও প্রকৃতপক্ষে স্থায়ী সমাধান আসছে না।
এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রায় সতেরো বছর ধরে এই সমস্যা চলমান রয়েছে।
জুলাই ২০২৫ এবং মার্চ ২০২৬-এ একাধিক অভিযান চালিয়ে সড়কের দুই ধারে থাকা অবৈধ দোকানপাট, হকার স্ট্যান্ড এবং অস্থায়ী স্থাপনা সরানো হয়েছে। অভিযানের সময় প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ দেখে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা আশা দেখা দিলেও, অল্প কিছুদিন পরেই পূর্বের পরিস্থিতি পুনরুদ্ধার হয়ে যায়। রাতের অন্ধকারে অথবা দিনের ব্যস্ত সময়ে দোকান আবারও বসাতে শুরু করা হয়, ফলে মহাসড়কে যানজট, বিশৃঙ্খলা এবং ভোগান্তি একটি দৈনন্দিন দৃশ্য হয়ে উঠেছে।
মূল আরেকটি বিবৃতিতে দেখা যায়, ভূলতা বাসস্ট্যান্ড থেকে গাউছিয়া মার্কেট পর্যন্ত মহাসড়কের দুই পাশে অসংখ্য ঝরোকা দোকান, ফলের স্টল, পোশাকের দোকান, খাবারের অস্থায়ী স্থান এবং বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করার ব্যবস্থা রয়েছে। ফুটপাত সম্পূর্ণরূপে দখল হয়ে যাওয়ায় পথচারীদের মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হতে হচ্ছে। এর ফলে নিয়মিত দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে, বিশেষ করে নারীরা, শিশুরা এবং বয়স্করা বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।
স্থানীয় জনসাধারণের মতে, সকালে অফিসগামী লোকজন এবং শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন। সামান্য দূরত্ব পার করা যাতে অনেক সময় লেগে যায়। যানজটের কারণে অ্যাম্বুল্যান্স এবং জরুরি গাড়িগুলিও আটকে পড়ছে। ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির সম্মুখীন। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—যদি প্রশাসন সত্যিই কঠোর হয়, তবে সতেরো বছরেও দখলমুক্ত করা কেন সম্ভব হচ্ছে না?
এলাকাবাসীর অভিযোগ, হকারদের জন্য ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করলেও কোনও সমাধান নয়। সংশ্লিষ্টদের কার্যক্রম কমে গেলে আবারও আগের অবস্থায় হকার বসে যেতে থাকে। ফলে স্থায়ী নজরদারির অভাবে পুরো পরিস্থিতি আবারও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
সচেতন মহলের ধারণা, শুধুমাত্র উচ্ছেদ অভিযান করে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং চাঁদাবাজি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।
এদিকে সাধারণ মানুষের দাবি, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মানের সড়কে এ ধরনের বিশৃঙ্খলা দেশের ভাবমূর্তির উপরও প্রভাব ফেলছে। তাই অবিলম্বে স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করে ভূলতা-গাউছিয়া এলাকার ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত রাখতে দাবি জানানো হয়েছে।

