Site icon দৈনিক নবদিগন্ত

বাগদুলীতে শিক্ষকের মারধরে ছাত্র হাসপাতালে, শিক্ষক অবরুদ্ধ

বাগদুলীতে শিক্ষকের মারধরে ছাত্র হাসপাতালে, শিক্ষক অবরুদ্ধ

মোঃ জাহিদুর রহিম মোল্লা, জেলা রাজবাড়ী:

রাজবাড়ী জেলার পাংশায়, মো: তাছিন মুন্সী (১৩) নামের এক ছাত্রকে পড়া না পারার কারণে এক শিক্ষকের হাতে নির্মমভাবে বেত্রাঘাত করা হয়েছে। এই ঘটনার পর স্থানীয়রা অভিযুক্ত শিক্ষক মো: আহাদ হোসেনকে অবরুদ্ধ করে রাখে।

মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বাগদুলী উচ্চ বিদ্যালয়ে এটি ঘটে। আহত ছাত্র বর্তমানে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

মো: তাছিন মুন্সী মৌরাট ইউনিয়নের মালঞ্চি এলাকার মো: সবুজ মুন্সীর ছেলে এবং বাগদুলী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত শিক্ষক মো: আহাদ হোসেন কালুখালী উপজেলার মৃগী ইউনিয়নের খরখরিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং তিনি বাগদুলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষকতা করেন।

বিদ্যালয়ের সূত্র অনুযায়ী, ক্লাস চলাকালীন অভিযুক্ত শিক্ষক ছেলেটিকে পড়া না জানার কারণে প্রথমে ১০ থেকে ১৫টি বেত্রাঘাত করেন। এরপর সেই ছাত্রকে ক্লাসরুমের মেঝেতে ফেলে নির্মমভাবে লাথি মারেন। এই সময় সহপাঠীরা এসে তাকে উদ্ধার করে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় লোকজন ও অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে জমায়েত হন।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রধান শিক্ষক অভিযুক্ত শিক্ষককে লাইব্রেরিতে নিরাপত্তার জন্য আটকে রাখেন।

আহত ছাত্রের সহপাঠী মো: সিয়াম মিয়া বলেন, শিক্ষক আমাদের পড়া না পাড়ার কারণে দুইটি করে বেত দিয়ে মারেন। কিন্তু তাছিনকে বেশি মারেন। এ সময় তাছিন বলেছিল, কেন আমাকে বেশি মারছেন। এই কথার পর স্যার তাকে বেঞ্চের উপর উঠে মারতে থাকেন। পরে ফ্লোরে ফেলে লাথি মারেন। আমরা যখন তাকে ঠেকাতে যাই, তখন আমাদেরকেও মারেন।

অভিযুক্ত শিক্ষক মো: আহাদ হোসেন উল্লেখ করেন, পড়া না পাড়ার জন্য প্রথমে তাছিনকে মারি। পরে তাছিনের মা নিয়ে গালিও দেয়, তখন আমি ক্ষিপ্ত হয়ে মারছিলাম। তবে আমি বুঝতে পারিনি এমন কিছু হবে। আমি নিজে দুঃখিত। আমার ভুল হয়েছে।

আহত ছাত্রের বাবা মুন্সী জাহিদুল ইসলাম সবুজ বলেন, খবর পেয়ে এসে দেখি আমার সন্তানের গায়ে একাধিক বেত্রাঘাতের দাগ রয়েছে। প্রতিটি জায়গা থেকে রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে। আমি ছেলেকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছি। আমি বিদ্যালয়ে এসেছি জানার জন্য যে, আমার ছেলের অপরাধ কি, যা আঘাতের চেয়ে কম বা বেশি।

মৌরাট ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য মো: শাজাহান মন্ডল বলেন, খবর পেয়ে আমি বিদ্যালয়ে গিয়েছিলাম। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত করতে সবাইকে চলে যেতে বলছি। কারণ প্রধান শিক্ষক অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন। আমি সকলকে অনুরোধ করছি যে, এই সময় অপেক্ষা করুন। সেই সাথে শিক্ষককে বাড়িতে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনার কারণে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্তprincipal, মো: আব্দুল খালেক বলেন, যে কারণে হোক, শিক্ষক হিসেবে এইরকমভাবে মারধর করা উচিত নয়। আমি অবিলম্বে পরিস্থিতি শুরুর জন্য অভিযুক্ত শিক্ষককে শোকজ করছি। তাকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে কারণ দর্শাতে হবে। এই সময় তিনি বিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম থেকে বিরত থাকবেন।

Exit mobile version