প্রিন্ট এর তারিখ: অক্টোবর ১৬, ২০২৬, ১০:৩১ পি.এম. || প্রকাশের তারিখ: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬, ৭:৫১ পি.এম.

‎কালকিনিতে যৌতুকের দাবিতে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে মারধরের অভিযোগ, গর্ভের সন্তান নষ্ট

‎মোঃ রেজাউল করিম, মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধি:

‎মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার বাঁশগাড়ি ইউনিয়নের চর ভাটোবালি এলাকায় যৌতুকের দাবিতে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূকে মারধর ও তলপেটে আঘাত করার অভিযোগ উঠেছে স্বামী, শাশুড়ি ও ননদের বিরুদ্ধে। পরিবারের দাবি, এ ঘটনার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই নারীর গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়েছে।

‎অভিযোগকারী পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী সালমা আক্তার (১৮) চর ভাটোবালি গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমান কাজীর মেয়ে। তার স্বামী কবির শিকদার। অভিযুক্ত অন্য দুজন হলেন—কবিরের মা কোহিনুর বেগম এবং বোন সাথী আক্তার।

‎ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, গত ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সকাল সাড়ে ৮টার দিকে যৌতুকের দাবিতে সালমাকে স্বামী, শাশুড়ি ও ননদ মিলে মারধর করেন। একপর্যায়ে তার তলপেটে সজোরে আঘাত করা হয়। এতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা সালমা।

‎পরে আশপাশের লোকজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে সালমার বাবার বাড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। তিন দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে বাড়িতে নিয়ে যান।

‎পরিবারের দাবি, বাড়িতে নেওয়ার দুই দিন পর সালমার রক্তক্ষরণ (ব্লিডিং) শুরু হয়। পরে গত ৭ সেপ্টেম্বর তাকে দ্রুত মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডে ভর্তি করেন।

‎ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, তলপেটে আঘাতের কারণে সালমার গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে যায়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

‎পরিবারের আরও দাবি, এর আগেও বিভিন্ন সময় যৌতুকের জন্য সালমাকে মারধর করা হয়েছে। এ নিয়ে একাধিকবার বিচার-সালিশ হলেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি। সর্বশেষ ঘটনার পর আবারও তাকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের।

‎এ বিষয়ে অভিযুক্ত স্বামী, শাশুড়ি ও ননদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে আইনগত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

‎ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগীর পরিবার।