প্রিন্ট এর তারিখ: অক্টোবর ১৭, ২০২৬, ১:৩৪ এ.এম. || প্রকাশের তারিখ: আগস্ট ২৭, ২০২৬, ৪:০০ পি.এম.

কালকিনিতে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ, ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

‎মোঃ রেজাউল করিম, ‎মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধিঃ

‎মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার সাহেবরামপুর ইউনিয়নের ক্রোকিরচর এলাকায় জমি দখলের চেষ্টা নিয়ে সাতজনের বিরুদ্ধে আদালতে পিটিশন মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা রয়েছে এবং শান্তি ভঙ্গের আশঙ্কা করছেন বাদীপক্ষ।
‎
‎মামলার নথি থেকে জানা গেছে, কালকিনি উপজেলার ১৪২ নম্বর ক্রোকিরচর মৌজার বিভিন্ন দাগে মোট ৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ জমিতে বিরোধ হয়েছে। বাদীপক্ষের দাবি, তারা দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবহার করে আসছেন। জমিতে গাছপালা, বসতঘর ও অন্যান্য স্থাপনা রয়েছে।

‎বিবাদী পক্ষ গাছপালা কেটে নেয় এবং রান্নাঘর ও বসতবাড়ি ভাঙচুর করে এবং বাদীপক্ষের সদস্যদের মারধর করে। ‎বাদী মো. সুজন হাওলাদারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্তরা ওই জমি জোরপূর্বক দখল করার চেষ্টা করে আসছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও পরিচিত ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একাধিকবার সালিস বৈঠক হয়েছে। সেখানে অভিযুক্তদের জমি দখল করা থেকে বিরত থাকতে বলা হলেও পরে তারা আবার দখল করার চেষ্টা করেছে বলে বাদী অভিযোগ করেছেন।
‎
‎মামলায় অভিযুক্তরা হলেন—মো.
সিদ্দিক হাওলাদার (৬০), সাহেল হাওলাদার (৩০), রাশেদ হাওলাদার (৩০), রিয়াদ হাওলাদার (২৪), স্বর্ণালী (১৮), রুবি বেগম (৫০) ও মো. সোহাগ সরদার (৩৬)। মামলার নথি অনুযায়ী, তারা সবাই সাহেবরামপুর ইউনিয়নের ক্রোকিরচর এলাকার বাসিন্দা।

‎মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১০ জুলাই ২০২৬ সকালের দিকে অভিযুক্তরা বসতঘরের একটি অংশ ও রান্নাঘর দখল করার চেষ্টা করেন। এ সময় বাদীর বাধার ফলে কয়েকজন অভিযুক্ত লাঠিসোঁটা দিয়ে তাকে মারধর করেন এবং সাক্ষীগণ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
‎
‎অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এ সময় মামলার এক নম্বর অভিযুক্ত জমিটি জোরপূর্বক দখল করার হুমকি দেন। এতে ভবিষ্যতে খুন-জখমসহ গুরুতর শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা রয়েছে বলে বাদীপক্ষ দাবি করেছে।
‎
‎এ ঘটনায় ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১৪৫ ধারায় মাদারীপুরের বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পিটিশন মামলা দায়ের করা হয়। যার মামলা নং-৪১/২০২৬ (কালকিনি) দায়ের করা হয়েছে। মামলায় তালিকাভুক্ত সম্পত্তিতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার এবং অভিযুক্তদের ক্ষতি করার থেকে বিরত রাখতে প্রয়োজনীয় আদেশ দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।
‎
‎তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা এবং জমির প্রকৃত মালিকানা ও দখল সংক্রান্ত বিষয় আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।