প্রিন্ট এর তারিখ: আগস্ট ৩১, ২০২৬, ৮:১৩ পি.এম. || প্রকাশের তারিখ: আগস্ট ২১, ২০২৬, ১২:২০ এ.এম.

পলাশ-নরসিংদী সড়ক প্রশস্তকরণে নতুন সম্ভাবনা, কমবে জনদুর্ভোগ

মিনার হোসেন খান, পলাশ প্রতিনিধিঃ

নরসিংদী জেলা সদরের সঙ্গে সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক খুবই সরু ও বাঁকা থাকায় প্রতিদিন প্রায় এক লক্ষ মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। পলাশ উপজেলার জিনারদী ইউনিয়নের পাঁচদোনা চরসিন্দুর সড়কের চরনগরদী বাজার থেকে নরসিংদী জেলা সদরের চিনিশপুর হয়ে ভেলানগর জেলখানার মোড় এবং চিনিশপুর কালিমন্দির হয়ে ভেলানগর বাজার পর্যন্ত মাত্র আড়াইটাকা রাস্তার খারাপ এবং সংকীর্ণ অবস্থার কারণে এখানে সাধারণ মানুষ আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, সড়কটি এতটাই সরু যে, দুটো বড় যানবাহন বা বাস-ট্রাক ক্রসিংয়ের সময় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। শুধু তাই নয় সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভেঙে পানি জমে বড় বড় গর্ত হয়ে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে রিকশা, অটোরিকশা, সিএনজি এবং সাধারণ মানুষের চলাচল খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। যোগাযোগের এই ধীরগতি ও উদাসীনতা নিয়ে মানুষ হতাশ হয়েছে।

এলাকা বাসীর মতে, এই বাঁকা রাস্তাটি সোজা করা সম্ভব হলে এর দূরত্ব এক কিলোমিটারে কমে আসবে, যা সময় ও জ্বালানি উভয়ই সাশ্রয় করবে। এছাড়া, নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য ডক্টর আব্দুল মঈন খানের নিজ বাড়ি চরণগরদী বাজারের পূর্ব পাশে হওয়ায়, স্থানীয়রা মনে করেন এই সড়কটির প্রতি এমপি মহোদয়ের দ্রুত নজর দেওয়া উচিত।

চরনগরদী বাজার থেকে ভেলানগর রাস্তাটুকু প্রশস্ত না থাকায় কোমলমতি শিক্ষার্থী এবং মুমূর্ষু রোগীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন। উপজেলা থেকে কোনো জরুরি রোগী জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্স যানজটে আটকে পড়ছে। অনেক সময় রাস্তায় আটকে থেকে রোগীর জীবন সংকটাপন্ন হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া পলাশের স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা সময়মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পরীক্ষার কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারছে না এবং সাধারণ চাকুরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা বাধাগ্রস্থ হয়ে পড়ছে। যদি রাস্তাটি প্রশস্ত এবং অপ্রয়োজনীয় বাঁকগুলো সোজা করা যায়, তাহলে জেলা সদরের সঙ্গে কম সময়ের মধ্যে স্কুল-কলেজ ও হাসপাতালসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির সভাপতি আলম মোল্লা জানান, এই রাস্তাটি অত্যন্ত জন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলির একটি। জেলা সদরের সাথে একমাত্র সংযোগ রাস্তা হওয়ায় পলাশের ছাত্র-ছাত্রী এবং সাধারণ জনগণের চাহিদা হিসাবে, পলাশের মাননীয় সংসদ সদস্য মহোদয় এই রাস্তা প্রশস্তকরণ ও আধুনিকায়নের জন্য ইতিমধ্যে উদ্যোগ নিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কাজ বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।

অন্যদিকে, পলাশ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন ভূইয়া মিল্টন জানান, রাস্তা প্রসস্তকরণের জন্য ড. আব্দুল মঈন স্যার নরসিংদী এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলীকে চিঠি দিয়েছেন, আশা করেন যে অতি শিগগিরই এই সমস্যার সমাধান হবে।

পলাশ উপজেলার সহকারী কমিশনার ভূমি ও জিনারদী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক রাকীন মাশরুর খান জানান, এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বিষয়টি পর্যালোচনা করে সমস্যা সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইশতিয়াক আহমেদ জানান, জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় বিষয়টি আলোচনা করে রাস্তাটির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হবে এবং মাননীয় সংসদ সদস্য মহোদয়ের সঙ্গে বিষয়টি আলোচনা সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে নরসিংদীর এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম শওকত জানান, এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। খুব দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

দীর্ঘদিনের বিড়ম্বনা কমাতে নরসিংদী-২ পলাশ আসনের সংসদ সদস্য ড. আব্দুল মঈন খানের সরাসরি সহযোগিতা এবং একটি বিশেষ বড় প্রকল্প শুরু করার মাধ্যমে সড়কটি দ্রুত মেরামত ও সম্প্রসারণ করার জন্য পলাশের সব স্তরের সাধারণ জনগণ জোর দাবি করেছেন।