রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর বাজারে একটি মারাত্মক অগ্নিকাণ্ডে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও পণ্য পুড়ে প্রায় ২ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। সোমবার (১৭ আগস্ট) ভোররাতে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।
খবর পেয়ে বালিয়াকান্দি ও রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনার স্থানে গিয়ে একসঙ্গে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। পরে তাদের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত প্রয়াত পাট ব্যবসায়ী এম এ কুদ্দুস জানান, তিনি তার দুই ব্যবসায়িক অংশীদার মৃনাল কান্তি শিকদার ও হিঠুকে নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে বহরপুর বাজারে পাটের ব্যবসা করছেন। ভোরে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আগুন লাগার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে আসেন এবং দেখতে পান, দোকানে থাকা প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকার পাট পুড়ে গেছে। বাজারের ফার্মেসি ব্যবসায়ী সুমন মোল্লা জানান, তার ফার্মেসিতে থাকা প্রায় ২০ লাখ টাকার ওষুধ আগুনে পুড়ে গেছে।
মুদি দোকান ‘জারিফ স্টোর’-এর মালিক মিমরাজুল হক জানান, তার দোকানে পাঁচ লাখ টাকার বেশি মূল্যের পণ্য ছিল। আগুনে তার দোকানের কোনো পণ্যই রক্ষা করা যায়নি। এ ছাড়া জলিল সরদারের চাল, গম ও তেলের মিলে আগুন লেগে ১০ লাখ টাকার বেশি মূল্যের পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে জলিল সরদারের ছেলে আত্মা ফার্মাসীর মালিক জাহিদুল ইসলামের ওষুধের দোকানের পণ্যও আগুনে সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে।
‘মির্সাস ব্রাদার ইলেকট্রনিকস’-এর ব্যবসায়ী বিপ্লব হোসেন জানান, তার দোকানে থাকা পাঁচ লাখ টাকার বেশি মূল্যের ইলেকট্রনিকস পণ্য পুড়ে গেছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, অগ্নিকাণ্ডে বহরপুর বাজারের একাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২ কোটি টাকা। তবে আগুনের সূত্রপাত কিভাবে হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন।
বালিয়াকান্দি ফায়ার সার্ভিসের ষ্টেশন অফিসার সালাউদ্দিন লস্কর জানান, রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানার নেতৃত্বে চারটি ইউনিট দীর্ঘ সময় কাজ করে, এক কোটি বিশ লক্ষ টাকার পণ্য উদ্ধার করেছে।