প্রিন্ট এর তারিখ: আগস্ট ৩১, ২০২৬, ৭:৩৭ পি.এম. || প্রকাশের তারিখ: আগস্ট ১২, ২০২৬, ৩:১৫ পি.এম.

বালিয়াকান্দিতে দোকানদারবিহীন ‘সততা স্টোর’, শিখছে শিক্ষার্থীরা

মো. জাহিদুর রহিম মোল্লা, রাজবাড়ী জেলা প্রতিনিধি :

শিক্ষার্থীদের মধ্যে সততা, দায়িত্ব ও নৈতিকতা গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি পাইলট সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে খুলেছে দোকানদারবিহীন ‘সততা স্টোর’। এই বিশেষ উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকে সৎ ও দায়িত্বশীল হওয়ার শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করছে বিদ্যালয়ের প্রশাসন।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, একটি কক্ষে ‘সততা স্টোর’ নামে ছোট আকারে একটি দোকান সাজানো হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন ধরনের খাদ্য সামগ্রী রাখা আছে। প্রতিটি পণ্যের সাথে নির্ধারিত মূল্য লিখা রয়েছে। কিন্তু দোকানে কোনো বিক্রেতা বা দোকানদার নেই।

শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্য নিয়ে নির্ধারিত মূল্য একটি রেজিস্টারে লিখে রাখে। পরে পণ্যের মূল্য নির্ধারিত স্থানে রাখা একটি বয়ামে জমা দেয়। পুরো প্রক্রিয়া শিক্ষার্থীদের নিজেদের দায়িত্বে পরিচালিত হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা কল্পনা জানান, এটি কোনো সাধারণ দোকান নয়। শিক্ষার্থীদের সততা ও নৈতিকতার অভ্যাস গড়ে তুলতেই ‘সততা স্টোর’ চালু করা হয়েছে। দোকানে কোনো বিক্রেতা না থাকলেও শিক্ষার্থীরা যেন নিজের দায়িত্ববোধ থেকে পণ্যের মূল্য দেয়—এটাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

তিনি আরও জানান, শিক্ষা জীবন থেকেই সততা ও দায়িত্ববোধ তৈরি করতে পারলে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীরা সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি আরও দায়িত্বশীল নাগরিক হবে। তাই পাঠ্যবইয়ের শিক্ষার সাথে বাস্তব জীবনে নৈতিকতার চর্চার সুযোগ তৈরির জন্য এই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দোকানদার ছাড়া নিজস্ব প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার বিষয়টি তাদের কাছে বেশ আকর্ষণীয়। একই সাথে পণ্য নেওয়ার পর মূল্য পরিশোধের দায়িত্ব থাকায় তারা সততার সাথে নিজেদের দায়িত্ব পালন করছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শিশু-কিশোরদের নৈতিক শিক্ষা শুধু শ্রেণীকক্ষে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। বাস্তব জীবনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সততা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ কাজে লাগানো প্রয়োজন। বালিয়াকান্দি পাইলট সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ‘সততা স্টোর’ সেই চর্চার একটি কার্যকর উদাহরণ হতে পারে।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ তৈরি করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে তাদের সৎ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে বলে আশা করছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টরা।