প্রিন্ট এর তারিখ: আগস্ট ৩১, ২০২৬, ১০:২৩ পি.এম. || প্রকাশের তারিখ: আগস্ট ৪, ২০২৬, ৪:০৭ পি.এম.

কটিয়াদীতে ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রতিবাদে মানববন্ধন, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

মোঃ জোনায়েদ হোসেন জুয়েল, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত বিভিন্ন অভিযোগের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। মানববন্ধন থেকে অভিযোগগুলোকে ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে এর সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি কটিয়াদীতে মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করার দাবি জানানো হয়।

সম্প্রতি কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আয়োজিত মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বক্তারা বলেন, ওসি রফিকুল ইসলাম দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মাদক, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশের তৎপরতা বেড়েছে। নিয়মিত অভিযান পরিচালনার কারণে অপরাধীদের একটি অংশ ক্ষুব্ধ হয়ে পুলিশের কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে বলে তারা দাবি করেন।

বক্তারা অভিযোগ করেন, ওসি রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনলাইনে যেসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, সেগুলোর অনেকটাই যাচাই-বাছাই ছাড়াই প্রচার করা হয়েছে। এতে একজন সরকারি কর্মকর্তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।

মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, একটি হত্যা মামলাকে কেন্দ্র করে ওসি রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ সামনে আনা হচ্ছে। তাদের দাবি, ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে তদন্ত প্রয়োজন। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা আইনানুগ ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত করা উচিত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অনলাইন সংবাদে একতরফাভাবে অভিযোগ তুলে ধরার মাধ্যমে নয়।

স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মানববন্ধনে বক্তব্য দেন। তারা ওসি রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রকাশিত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অবশ্যই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। আবার অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

‘মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় অপপ্রচার’

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ও মানববন্ধন প্রসঙ্গে কটিয়াদী মডেল থানার ওসি মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি মাদক ও অন্যান্য অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে কাজ করছেন।

তিনি বলেন, “আমি মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে কাজ করছি। মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ কারণে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল ক্ষুব্ধ হয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে বলে আমি মনে করি।”

ওসি আরও বলেন, “আমার বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত করা হোক। নিরপেক্ষ তদন্ত হলে আমি অবশ্যই সহযোগিতা করব। তবে যাচাই-বাছাই ছাড়া মিথ্যা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য প্রচার করে পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করার সুযোগ থাকা উচিত নয়।”

তিনি জানান, কটিয়াদীতে মাদক, ছিনতাইসহ সব ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

মানববন্ধন থেকে বক্তারা ওসি রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রকাশিত অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করার দাবি জানান। একই সঙ্গে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

তবে সচেতন মহলের মতে, অনলাইনে প্রকাশিত অভিযোগ যেমন গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন, তেমনি পুলিশের কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলেও তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত হওয়া জরুরি। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে এলে সব ধরনের বিভ্রান্তির অবসান হবে বলে মনে করছেন তারা।

মানববন্ধন ঘিরে কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কিছু সময়ের জন্য মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। বক্তারা বলেন, অপরাধ দমনে পুলিশের কার্যক্রম যেমন অব্যাহত থাকা প্রয়োজন, তেমনি পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা যেকোনো অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা জরুরি।