কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী মডেল থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মাদক, চুরি, ছিনতাই, জুয়া ও অন্যান্য অপরাধের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে আসছেন মোঃ রফিকুল ইসলাম। গত ৪ এপ্রিল ২০২৬ দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে মাদকদ্রব্য, মাদক বিক্রির অর্থ, দেশীয় অস্ত্রসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধারের পাশাপাশি একাধিক ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কটিয়াদীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে থানার নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি মাদকবিরোধী অভিযানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সীমিত জনবল ও নানা বাস্তবতার মধ্যেও থানা পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহ, অভিযান পরিচালনা এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশের তৎপরতা আগের তুলনায় দৃশ্যমান হয়েছে বলে স্থানীয়দের একাংশের দাবি।
কটিয়াদীতে মাদক কারবারের বিস্তার ঠেকাতে পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। বিভিন্ন সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে ইয়াবা, গাঁজা ও অন্যান্য মাদকদ্রব্য উদ্ধারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। পুলিশের দাবি, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।
| জামালপুরে যুব সমাজের উদ্যোগে মাদকবিরোধী আলোচনা সভা |
আইনশৃঙ্খলা সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি এলাকায় মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে হলে শুধু খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেপ্তার করলেই হবে না; মাদকের সরবরাহ, বিক্রয় নেটওয়ার্ক, অর্থের লেনদেন এবং পেছনে থাকা ব্যক্তিদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। সে লক্ষ্যেই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
তবে পুলিশের মাদকবিরোধী তৎপরতা জোরদার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওসি মোঃ রফিকুল ইসলামকে ঘিরে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, পুলিশের অভিযানকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এমনকি কথিত সংবাদ সম্মেলন, মনগড়া বক্তব্য কিংবা অসম্পূর্ণ তথ্যের মাধ্যমে ওসি রফিকুল ইসলামের ব্যক্তিগত ও পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে সরাসরি অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িত হিসেবে চিহ্নিত করার সুযোগ নেই। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট বক্তব্য, নথিপত্র ও তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করা জরুরি।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের অভিযোগ, মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার হওয়ার কারণে মাদক ব্যবসার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে স্বার্থ জড়িত কিছু ব্যক্তি ক্ষুব্ধ হয়ে থাকতে পারেন। তাদের একটি অংশ পুলিশের তৎপরতা কমিয়ে দিতে নানা ধরনের চাপ, বিভ্রান্তি ও নেতিবাচক প্রচারণার আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সচেতন মহলের প্রশ্ন, একজন পুলিশ কর্মকর্তা যদি আইন অনুযায়ী মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন, তাহলে সেই অভিযান বন্ধ বা প্রশ্নবিদ্ধ করার পরিবর্তে কোনো অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রমাণসহ উপস্থাপন করা উচিত। অভিযোগের আড়ালে যদি সত্যতা থাকে, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আবার অভিযোগ মিথ্যা হলে সেটিও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
কারণ, মাদকবিরোধী অভিযানের মতো জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি কার্যক্রমকে ব্যক্তিগত বিরোধ, স্বার্থের দ্বন্দ্ব কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার কারণে দুর্বল করে দেওয়া হলে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে পুরো এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সেটি তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়াই স্বাভাবিক ও গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি। কোনো অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার কিংবা একতরফা বক্তব্যের ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যেমন অনুচিত, তেমনি কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকলে সেটিও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
সংশ্লিষ্টদের মতে, কটিয়াদীর মাদকবিরোধী অভিযানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও আইনানুগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে পুলিশকে আরও সক্রিয় ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে।
ওসি মোঃ রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, মাদক, সন্ত্রাস ও অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করছে। অপরাধ দমনে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও প্রয়োজন। স্থানীয়ভাবে মাদক বিক্রি, সরবরাহ কিংবা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য থাকলে তা পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু পুলিশি অভিযান দিয়ে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন, সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন। পাশাপাশি মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে মামলা, তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়াও দ্রুত ও কার্যকর হওয়া দরকার।
কটিয়াদীর সচেতন নাগরিকদের প্রত্যাশা, মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর চাপ, অপপ্রচার কিংবা স্বার্থের কারণে যেন থেমে না যায়। একই সঙ্গে পুলিশের বিরুদ্ধেও যদি কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, সেটির নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করতে হবে।
মাদক একটি সামাজিক ব্যাধি। এর বিস্তার ঠেকাতে যেমন অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা প্রয়োজন, তেমনি পুলিশের কার্যক্রমেও থাকতে হবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি। তাই কটিয়াদীতে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের ক্ষেত্রে তথ্য-প্রমাণভিত্তিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
অভিযান বন্ধ নয়, অপপ্রচার নয়; মাদকের বিরুদ্ধে আইনসম্মত, নিরপেক্ষ ও প্রমাণভিত্তিক অভিযানই এখন কটিয়াদীবাসীর প্রত্যাশা।