প্রিন্ট এর তারিখ: জুলাই ২৯, ২০২৬, ৭:২১ পি.এম. || প্রকাশের তারিখ: জুলাই ২৯, ২০২৬, ৫:২১ পি.এম.

কিশোরগঞ্জ পৌরসভার অডিট আপত্তি: চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগেই দুর্নীতির তকমা দেওয়া কতটা যৌক্তিক?

মোঃজোনায়েদ হোসেন জুয়েল, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

কিশোরগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ৬১ লাখ টাকার অনিয়মের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, অডিট আপত্তি আসা মানে দুর্নীতি বা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়। সরকারি নিরীক্ষা কার্যক্রমে আপত্তি ওঠার পরে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ব্যাখ্যা, নথি ও জবাব দাখিল করার সুযোগ পায়। এরপর বিষয়টির সমাধান চূড়ান্তভাবে করা হয়।

পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম জানান, অডিট আপত্তির বিষয়টি বর্তমানে দাপ্তরিক সমাধানের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এটি কোনও একক কর্মকর্তার বিষয় নয়; সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় জবাব ও নথি জমা দেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তাই চূড়ান্ত সমাধানের আগে কোনো মন্তব্য করা সঠিক নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সরকারি অডিটে আপত্তি ওঠা একটি সাধারন প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। অনেক সময় ব্যাখ্যা ও অতিরিক্ত নথি পর্যালোচনার পর আপত্তি আংশিক বা পুরোপুরি সমাধান হয়ে যায়। ফলে অডিট আপত্তিকে চূড়ান্ত দুর্নীতির প্রমাণ হিসেবে দেখানো হলে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।

আরোও পড়ুন

৫ দফা দাবিতে বুধবার থেকে সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট

বিশেষজ্ঞদের মতামত, কোনো অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত, শুনানি এবং আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী হিসেবে দেখা ন্যায়বিচারের সহিত সঙ্গতিপূর্ণ নয়। অভিযোগ থাকলে তা অবশ্যই নিরপেক্ষ ভাবে তদন্ত করা উচিত, সেই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও দিতে হবে।

সুশাসন নিশ্চিত করতে অডিট আপত্তির দ্রুত এবং স্বচ্ছ সমাধান যেমন জরুরি, তেমনি অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে কাউকে আগাম দোষী সাব্যস্ত না করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।