প্রিন্ট এর তারিখ: জুলাই ২৭, ২০২৬, ৮:১৬ এ.এম. || প্রকাশের তারিখ: জুলাই ২৬, ২০২৬, ৬:৩৯ পি.এম.

গোপালগঞ্জে কয়েক দিনের ব্যবধানে মাছ-সবজির দামে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি, বিপাকে সাধারণ মানুষ

এম টি রহমান মাহমুদ, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

গোপালগঞ্জে কয়েক দিনের ব্যবধানে মাছ-সবজির দাম দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত বেড়ে গেছে। এখন বাজারে ৬০ টাকা কেজির নিচে সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। ইলিশ মাছের দামও অনেক বেশি। চাষের পাঙাশ, রুই, কাতলা, সিলভার কার্পসহ বেশিরভাগ মাছের দাম বেড়ে গেছে।

এতে দিনমজুর, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষদের জন্য মাছ, মাংস, সবজির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। গোপালগঞ্জ শহরের বড় বাজারের কাঁচা বাজার ও মাছ বাজারে আমরা সিনিয়র সাংবাদিক এম টি রহমান মাহমুদ, সাংবাদিক লুৎফর সিকদার ও সাংবাদিক মাহামুদ কবির একসঙ্গে ঘুরে দেখেছি, প্রায় প্রতিটি সবজির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। কয়েক দিন আগে ঢেঁড়স ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হতো। সেই ঢেঁড়শ এখন ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

আরোও পড়ুন

শেরপুরে লেকার ফার্নিচার শিল্পের বিকাশ, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকির অভিযোগ

এইভাবে মিষ্টিকুমড়া প্রতিকেজি ২৫-৩০ টাকা থেকে ৭০ টাকা কেজিতে উঠেছে। কচুরমুখী ৫০ থেকে বেড়ে ৮০ টাকা, উচ্ছে ৫০ থেকে বেড়ে ৮০ টাকায়, কাঁকরোল ৩০ থেকে বেড়ে ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ধুন্দল ২৫ থেকে বেড়ে ৬০ টাকা, ঝিঙে ৩০ থেকে বেড়ে ৮০ টাকা এবং পটল ৩৫ থেকে বেড়ে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি আকারের একটি লাউ ৩০ থেকে ৪০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন সেটা ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে তুলনামূলক কম দামি সবজি হিসেবে শুধু পেঁপে ৪০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে। কাঁচামরিচ ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে; যা ১০ দিন আগে ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছিল। সবজির পাশাপাশি মাছের বাজারও ঊর্ধ্বমুখী। বাজারে এক কেজি ওজনের ইলিশ ৩ হাজার টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। আর ৩৫০ থেকে ৪০০ গ্রাম ওজনের ছোট ইলিশের দাম ১ হাজার ৫০০ টাকায় উঠেছে।

এছাড়া পাঙাশ, রুই, কাতলা, সিলভার কার্পসহ বিভিন্ন মাছের দামও ২৫ থেকে ৫০ টাকা কেজিতে বেড়েছে। রুই মাছ ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা কয়েক দিন আগে ছিল ৪৫০ থেকে ৪৮০ টাকার মধ্যে। মাছ বিক্রেতা জহর বললেন, যেসব জেলার চাষের মাছ আসে, সেখানে বৃষ্টিতে মাছ ভেসে গেছে। এই সময় বাজারে ইলিশ মাছের আমদানি বেড়ে যায়। দেশি মাছের দাম কমে। গত সপ্তাহে ইলিশের দাম যতটা কমেছিল, এই সপ্তাহে তার চেয়ে বেশি বেড়েছে। তাই সব মাছের বাজার খুব চড়া।

ক্রেতা স্বপন মোল্লা বলেন, আমরা বাজারে এসে আমাদের বাজেট ঠিক রাখতে পারছি না। প্রয়োজনীয় পণ্য না কিনেই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। এ অবস্থায় আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষ ঠিক মতো বাজার করতে পারছে না।

সবজি ব্যবসায়ী হানিফ, ইকবাল, মুদি দোকান মিজু ও আরও কয়েকজন বলেছেন, অব্যাহত বৃষ্টিতে সবজি নষ্ট হয়েছে। ফলে আড়তে পর্যাপ্ত সবজির মানে আসছে না। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কমেছে। এ কারণেই প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। প্রতিবছর বর্ষাকালে সবজির দাম সাধারণত কিছুটা বেড়ে যায়।

আরোও পড়ুন

শাল্লায় বাড়ি থেকে ব্রিটিশ আমলের সন্দেহভাজন লোহার পিলার উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ

গোপালগঞ্জ জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা আরিফ হোসেন বলেন, চলতি জুলাই মাসে জেলায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে। এতে জেলার ৮৫ হেক্টর জমির সবজি ক্ষেত ডুবে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১ হাজার ৩৬০ সবজি চাষী। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সবজির বাজারে সরবরাহ অনেক কমে গেছে। সেজন্য সবজির দাম বেড়েছে। মাছ ও সবজির বাজারে আমরা নিয়মিত নজরদারি করছি। বাজারে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সবজির সরবরাহ কমেছে। তাই বাইরের জেলা থেকে গোপালগঞ্জে বেশিরভাগ সবজি আসছে বলে শুনেছি।

তবুও অতিরিক্ত মুনাফা না করে, ক্রয়-বিক্রয় মূল্যের মধ্যে ভারসাম্য রেখে মাছ-সবজি বিক্রি করতে বিক্রেতাদের পরামর্শ দিয়েছি। কিন্তু! গরীব অসহায় দরিদ্র মানুষের কষ্ট কমানোর জন্য বাজার নজরদারি খুবই প্রয়োজন! ভোক্তা অধিকার দেখে দেখছে না! প্রশাসনের সহানুভূতি কামনা করছি।

গোপালগঞ্জ এর বাজারের ব্যস্ততা সত্যিই অন্য জেলার তুলনায় খারাপ! দেখার কেউ নেই!