টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী ফিরতি রথ ধর্মীয় গুরুত্ব, উৎসবমুখর পরিবেশ ও হাজারো ভক্তের অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, কালিহাতী পৌরসভার বেতডোবা এলাকায় অবস্থিত হেরা ব্রহ্মচারীর আশ্রম (মাসির বাড়ি) প্রাঙ্গণ থেকে শোভাযাত্রার মাধ্যমে রথটি যাত্রা শুরু করে। পরে ভক্তদের হরিনাম সংকীর্তন, শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি ও বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের সুরে মুখরিত পরিবেশে রথটি কালিহাতী কেন্দ্রীয় জয় কালীবাড়ি মন্দিরে এসে পৌঁছায়। এ সময় রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে অসংখ্য মানুষ রথযাত্রা প্রত্যক্ষ করেন এবং ভক্তিভরে প্রণাম জানান।
রথযাত্রাকে ঘিরে পুরো এলাকায় ছিল উৎসবের পরিবেশ। নারী, পুরুষ, শিশু ও প্রবীণসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। শোভাযাত্রা নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করে।
রথটি কেন্দ্রীয় জয় কালীবাড়ি মন্দিরে পৌঁছানোর পর বিশেষ পূজা-অর্চনা, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান এবং দেশ, জাতি ও বিশ্ব মানবতার শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত ভক্তরা বিশ্বাস করেন, উল্টো রথযাত্রার মাধ্যমে শ্রীজগন্নাথদেবের নিজ মন্দিরে প্রত্যাবর্তনের এই আচার ধর্মীয়ভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং এটি ভক্তদের মধ্যে আত্মিক প্রশান্তি ও ঐক্যের বার্তা পৌঁছে দেয়।
| গুজবে ঠাকুরগাঁওয়ের পেট্রোল পাম্পে উপচে পড়া ভিড়, তেল নিতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি |
কালিহাতী কেন্দ্রীয় জয় কালীবাড়ি মন্দিরের সভাপতি সুজিত দত্ত মানু বলেন, “ভক্তদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় এবারও উল্টো রথযাত্রা সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এজন্য আমরা সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। পুলিশ প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি।
মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক মানিক সাহা চৌধুরী বলেন, রথযাত্রা —দুই পর্বই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়ে এ উৎসব সম্পন্ন হওয়ায় আমরা আনন্দিত। আগামী দিনেও সকলের সহযোগিতায় এ ঐতিহ্য অব্যাহত থাকবে বলে আমরা আশা করি।”
ধর্মীয় গুরুত্ব, সম্প্রীতি এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশে ফিরতি পথে রথযাত্রা সম্পন্ন হওয়ায় ভক্ত ও দর্শনার্থীদের মাঝে স্বস্তি ও আনন্দের অনুভূতি ছিল। এ আয়োজন আবারও কালিহাতীর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক বন্ধনের উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে উঠেছে।