প্রিন্ট এর তারিখ: জুলাই ১৮, ২০২৬, ২:৪৪ পি.এম. || প্রকাশের তারিখ: জুলাই ১৫, ২০২৬, ৭:০৯ পি.এম.

গার্মেন্টসকর্মীর ঐতিহাসিক মৃত্যু: চার মাস পর স্বামীর বিরুদ্ধে হত্যা অভিযোগ

আহসান হাবিব, আশুলিয়া (ঢাকা) প্রতিনিধি:

ঢাকার আশুলিয়াতে এক গার্মেন্টসকর্মীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর প্রায় চার মাস পর, তার স্বামীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মৃতের পরিবার অভিযোগ করছে যে, আমেনা বেগমকে হত্যা করা হয়েছে এবং ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। এরপর পরিবারের সদস্যদের না জানিয়ে মরদেহ দাফন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাজুল ইসলাম সোহাগের আদালতে নিহতের বড় বোন মোসা. রুবিনা বেগম মামলাটি দায়ের করেন। মামলার একমাত্র আসামি হিসেবে আমেনার স্বামী মো. অলিউল্লাহ, যিনি শহিদ নামেও পরিচিত।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মীর আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন। একই সঙ্গে, এ ঘটনায় পূর্বে কোনো মামলা হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০১৮ সালে আমেনা বেগমের প্রথম বিয়ে হয়। এক বছর পর, তার প্রথম স্বামী লিভার ক্যান্সারে মারা যান। তাদের একটি দুই মাসের সন্তান ছিল। তার স্বামীর মৃত্যুর পর জীবিকার প্রয়োজনে, ২০২৪ সালের এপ্রিলে আমের স্পিনিং মিলস লিমিটেডে অপারেটর হিসেবে চাকরি শুরু করেন। একই প্রতিষ্ঠানের কর্মী শহিদকে জানার পর, ২০২৪ সালের শেষের দিকে তাদের বিয়ে হয়।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে যে, বিয়ের পর থেকেই শহিদ আমেনার ওপর শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন চালাতে থাকেন। এমনকি, তাকে মোবাইল ফোন ব্যবহারেও বাধা দেওয়া হতো। আমেনা অনেকবার পরিবারের সদস্যদের এই নির্যাতনের কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু গত মার্চ মাস থেকে তার সঙ্গে পরিবারের সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

পরিবারের সদস্যরা অনেক দিন যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনও খবর না পেয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন। মে মাসের শেষের দিকে আমেনার বোন নুরজাহান বেগম তাদের পুরনো বাসায় গিয়েছিলেন এবং জানতে পারেন যে, তারা নতুন বাসায় চলে গেছেন। পরে নতুন ঠিকানা খুঁজে পেয়ে স্থানীয়দের কাছে থেকে জানা যায়, ২৬ মার্চ আমেনা গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনার পর থেকে শহিদ পলাতক রয়েছেন।

মামলায় আরও অভিযোগ রয়েছে যে, পুলিশ নিহতের পরিবারের সদস্যদের খুঁজে না পেয়ে মরদেহ শিমুলতলার দরগাপাড়া কবরস্থানে দাফন করে। পরে স্থানীয়দের কাছে পরিবার জানতে পারে, শহিদ প্রায়শই আমেনাকে মারধর করতেন। অভিযোগ রয়েছে যে, ঘটনার দিনও তাকে মারধর করা হয়েছিল।

নিহতের পরিবারের দাবি, আমেনাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে এবং পরে তার মরদেহ ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে। এরপর দ্রুত মরদেহ দাফনের মাধ্যমে ঘটনাটির সত্যতা গোপন করার চেষ্টা করা হয়।

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ উদ্ধারের সময় নিহতের পরিবারের সদস্যদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। সেই কারণে আইন অনুযায়ী একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয় এবং মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা করা হয়।

আদালতের নির্দেশে বিষয়টি নতুন করে তদন্তের আওতায় আসায়, চার মাস আগে ঘটে যাওয়া এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের প্রত্যাশা পুনরায় তৈরী হয়েছে।