প্রিন্ট এর তারিখ: জুলাই ১৭, ২০২৬, ২:৪৪ পি.এম. || প্রকাশের তারিখ: জুলাই ১০, ২০২৬, ৪:১৯ পি.এম.

নিকলীতে থানা হাজতে পরোয়ানাভুক্ত আসামির মৃত্যু, প্রাথমিক তদন্তে আত্মহত্যার আলামত

মো: জোনায়েদ হোসেন জুয়েল, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:

কিশোরগঞ্জের নিকলী থানার হাজতে পরোয়ানাভুক্ত এক আসামির মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরের আগে হাজতখানার ভেতর থেকে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে আত্মহত্যার আলামত পাওয়া গেলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিকলী সিআর মামলা নং-৪০১(১)/২৬-এর পরোয়ানার ভিত্তিতে উপজেলার শহরমুল গ্রামের বাসিন্দা মো. রুবেল (২১)কে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ২০ মিনিটে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। থানায় আনার পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে তাকে হাজতখানায় রাখা হয়। এ সময় নিয়ম অনুযায়ী তার দেহ তল্লাশিও করা হয়।

পরে সকাল ১১টা ১০ মিনিটে রুবেলের বাবা থানায় এসে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর সিডিএমএসে গ্রেপ্তারের তথ্য সংরক্ষণ এবং আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়।

পুলিশ জানায়, আদালতে নেওয়ার জন্য হাজত থেকে রুবেলকে বের করতে গিয়ে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা দেখতে পান, তিনি নিজের পরিহিত ফুলহাতা শার্ট খুলে হাজতের লোহার গ্রিলের সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলে আছেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলেও তিনি আর জীবিত ছিলেন না।

দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সকাল ১১টা ১৫ মিনিট থেকে ১১টা ৩০ মিনিটের মধ্যে কোনো এক সময় ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। ঘটনাস্থলের প্রাথমিক আলামতের ভিত্তিতে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হচ্ছে না।

ঘটনার পর ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে অপমৃত্যুর মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, আলামত এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

যেহেতু এটি একটি সংবেদনশীল মৃত্যু, তাই সংবাদে “আত্মহত্যা করেছে” বলে নিশ্চিতভাবে উল্লেখ না করে “পুলিশের প্রাথমিক ধারণা”, “প্রাথমিক আলামত” বা “তদন্তাধীন” ভাষা ব্যবহার করাই সাংবাদিকতার দৃষ্টিকোণ থেকে অধিক উপযুক্ত।