এম টি রহমান মাহমুদ, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
বাংলাদেশের কওমী মাদ্রাসা ও আলেম সমাজের বিরুদ্ধে যেকোনো অপপ্রচার ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রোপাগান্ডার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে উলামা পরিষদ গোপালগঞ্জ শহরের মুসলিম এতিমখানা মাদ্রাসার সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত উলামা পরিষদ গোপালগঞ্জের নির্বাহী সভায় এ ঘোষণা দেওয়া হয়। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মুফতি শুয়াইব ইবরাহীমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন মুফতি হাফিজুর রহমান।
সভায় বক্তারা বলেন, সম্প্রতি একটি মহল পরিকল্পিতভাবে আলেম-ওলামা ও কওমী মাদ্রাসার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ওলামায়ে কেরাম ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সকলের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা এবং নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তার দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির। নিরপেক্ষ তদন্ত ও যথাযথ সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হওয়া উচিত। তবে তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার আগেই কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা, ব্যক্তির অপরাধের দায় প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কিংবা পুরো আলেম সমাজকে হেয়প্রতিপন্ন করা অন্যায় ও নিন্দনীয়।
তারা আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বহু তথ্য বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়; বরং অনেক ক্ষেত্রে বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এছাড়া কোনো ঘটনা প্রথমদিকে যেভাবে ব্যাপক প্রচার পায়, তদন্তে প্রকৃত তথ্য উদঘাটিত হওয়ার পর তা একই গুরুত্বে প্রকাশিত হয় না, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।
দেশব্যাপী কালিমা খচিত পতাকা টানানোর প্রসঙ্গে বক্তারা বলেন, দেশের ভেতরে বিদেশি পতাকা প্রদর্শনের প্রতিক্রিয়ায় কিছু মানুষ আবেগের বশবর্তী হয়ে এ ধরনের পতাকা টানিয়েছেন বলে প্রতীয়মান হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশে পুনরায় জঙ্গিবাদ ইস্যু সৃষ্টি বা অস্থিতিশীলতা তৈরির যে কোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় জানানো হয়, উলামা পরিষদ গোপালগঞ্জ জেলার উলামায়ে কেরাম, কওমী মাদ্রাসা এবং সাধারণ মানুষের দ্বীনি ও সামাজিক কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। মাদ্রাসাগুলোর শিক্ষা, শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও সার্বিক কার্যক্রমে পরামর্শ প্রদানের লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া দাওয়াতি ও সেবামূলক কার্যক্রম জোরদার করতে জেলার পাঁচটি থানায় সমাবেশ, ইউনিয়নভিত্তিক ইলাহী মজলিস এবং জেলা শহরে শিক্ষিত সমাজ, ব্যবসায়ী ও বিশিষ্ট ব্যক্তি, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণে দাওয়াতি সেমিনার আয়োজনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। এসব কর্মসূচি সফল করতে জেলার সকল আলেম-ওলামা ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করা হয়।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন মুফতি মোর্তাজা হাসান, মাওলানা ফখরুল আলম, মুফতি মাসুদুর রহমান, মাওলানা হায়াত আলী, মাওলানা আবুল কালাম, মুফতি জাহিদ আল মাহমুদ, মাওলানা ফারুক হাসান নদভী, মাওলানা নাসিম আহমদ, মাওলানা শরিফ আনিসুর রহমান, মুফতি আহমাদুল্লাহ মিশকাত, মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক, মুফতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, মাওলানা হাফিজুল ইসলাম শাহীন, মাওলানা রবিউল ইসলাম, মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম, মাওলানা ওমর ফারুক রহমানি, মাওলানা আব্দুস সামাদ, মাওলানা আব্দুর রহমান, কারী বশির আহমদ, মাওলানা মুফিজুর রহমানসহ জেলার বিশিষ্ট ওলামায়ে কেরাম।
আমরা শান্তি প্রিয় মানুষ আমরা কোন বিভ্রান্তি চাই না। সত্য ও সততার সঙ্গে জীবন উৎসর্গ করব। ইনশাআল্লাহ!