মোঃ জোনায়েদ হোসেন জুয়েল, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন, আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং পরিবেশবান্ধব পাটপণ্যের উৎপাদনে উদ্বুদ্ধ করতে কিশোরগঞ্জে যুব মহিলাদের জন্য পাটপণ্যভিত্তিক হস্তশিল্প ওরিয়েন্টেশন এবং সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই ২০২৬) সকাল ১০টায় কিশোরগঞ্জ শহরের মনিপুরঘাট কাটাখালী রোডে অবস্থিত কাইডস্ যুব মহিলা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নিজস্ব কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন এলাকার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যুব মহিলারা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠান উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় পাটশিল্পের বর্তমান সম্ভাবনা, পরিবেশবান্ধব পাটপণ্যের উৎপাদন, গুণগত মান উন্নয়ন, আধুনিক নকশা, বাজারজাতকরণ এবং নারী উদ্যোক্তা তৈরির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, দেশে ও বিদেশে পাটজাত পণ্যের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং নারীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা সময়ের দাবি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবুল কালাম ভূঁইয়া। প্রধান আলোচক ছিলেন জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক আল-আমিন ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. কামাল উদ্দিন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন কাইডস্ যুব মহিলা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সভাপতি লিপি রানী দাস নিশি এবং অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংগঠনের তাসলিমা আক্তার স্মৃতি। এ সময় সাংবাদিক সারওয়ার জাহান, ফরহাদ হোসেন রাজ, জুনায়েদ হোসেন জুয়েল ও শরীফুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওসি মো. আবুল কালাম ভূঁইয়া বলেন, নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ অত্যন্ত কার্যকর। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে পরিবেশবান্ধব পণ্যের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। তাই পাটপণ্য উৎপাদন ও বিপণনে নারীরা এগিয়ে এলে একদিকে যেমন তাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে দেশের ঐতিহ্যবাহী পাটশিল্পও নতুন গতি পাবে।
প্রধান আলোচক আল-আমিন ভূঁইয়া বলেন, প্রশিক্ষণ শুধু একটি সনদ অর্জনের বিষয় নয়, বরং এটি বাস্তব জীবনে কাজে লাগিয়ে আয়মুখী কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীদের অর্জিত দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি মো. কামাল উদ্দিন বলেন, যুব উন্নয়নের মূল লক্ষ্য হলো দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা। নারীরা যদি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উৎপাদনমুখী কাজে সম্পৃক্ত হন, তবে তারা নিজের পরিবারের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।
বক্তারা আরও বলেন, পাট বাংলাদেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী অর্থকরী ফসল। প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে বিশ্বব্যাপী পাটজাত পরিবেশবান্ধব পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নারীদের দক্ষ উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, দারিদ্র্য বিমোচন এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করা যুব মহিলাদের হাতে সনদপত্র তুলে দেন প্রধান অতিথি ও অতিথিবৃন্দ। পরে আয়োজকদের পক্ষ থেকে অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। অংশগ্রহণকারী প্রশিক্ষণার্থীরাও ভবিষ্যতে পাটপণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।