বিশেষ প্রতিনিধি কামরুল ইসলাম, টেকনাফ (কক্সবাজার):
কক্সবাজারের টেকনাফে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), নৌ-পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন এবং উপজেলা মৎস্য দপ্তরের সহযোগিতায় পরিচালিত একটি যৌথ অভিযান চালিয়ে থাইল্যান্ডে উত্পাদিত এবং মায়ানমার থেকে পাচারকৃত প্রায় ৫ লাখ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল উদ্ধার করা হয়েছে। এ উদ্ধারকৃত জালের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি ৪৯ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা।
বিজিবি সূত্র জানায়, সীমান্তের নিরাপত্তা বজায় রাখা, চোরাচালান রোধ এবং দেশের মৎস্যসম্পদ ধ্বংসকারী অবৈধ কারেন্ট জাল প্রতিরোধে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) বেশ কিছু সময় ধরে কাজ করে আসছে। এর অংশ হিসেবে, গত দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী দলের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছিল বিজিবির গোয়েন্দা সদস্যরা।
গোপন তথ্য অনুযায়ী, মায়ানমার থেকে আসা বিপুল পরিমাণ অবৈধ কারেন্ট জাল টেকনাফ সদর এলাকার লামার বাজারের বিভিন্ন গুদামে অবরোধ করে রাখা হয়েছে। তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের পর টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক দলের নির্দেশনায় যৌথ অভিযান আয়োজনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
২৫ জুন বৃহস্পতিবার সকাল ৭ টার দিকে বিজিবি, নৌ-পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন এবং উপজেলা মৎস্য দপ্তরের সমন্বয়ে গঠিত অভিযান দল লামার বাজার এলাকায় কৌশলগতভাবে অবস্থান নেয়। পরে সকাল ৮টা ২০ মিনিটের সময় বাজারের চারটি গুদামে একসাথে অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযান চলাকালে গুদামগুলির বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে রাখা মোট ৪ লাখ ৯৮ হাজার ৭৫০ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল উদ্ধার করা হয়। এ জালগুলি থাইল্যান্ডে তৈরি এবং মায়ানমার থেকে অবৈধভাবে দেশের ভেতরে আনা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়।
বিজিবি জানিয়েছে, এ ধরণের কারেন্ট জাল বাংলাদেশের মৎস্যসম্পদ, বিশেষ করে মাছের পোনা ও জলজ জীববৈচিত্র্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তাই অবৈধ কারেন্ট জাল বের করা এবং পাচার রোধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখা হবে।
উদ্ধারকৃত কারেন্ট জাল প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর টেকনাফের সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাকিব হোসেন চৌধুরী, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ওবায়দুল হক, বিজিবি এবং নৌ-পুলিশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হবে।
এ বিষয়ে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক মোঃ হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেছেন, সীমান্ত অঞ্চলে চোরাচালান রোধ এবং দেশের মৎস্যসম্পদ রক্ষায় বিজিবির কার্যক্রম ভবিষ্যতেও চলতে থাকবে।