Site icon দৈনিক নবদিগন্ত

টেকনাফে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ১০ গ্রেনেড, ২৮ রাউন্ড গুলি ও ২ কেজি গাঁজা উদ্ধার

টেকনাফে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ১০ গ্রেনেড, ২৮ রাউন্ড গুলি ও ২ কেজি গাঁজা উদ্ধার

মোহাম্মদ হোসাইন, টেকনাফ (কক্সবাজার) :

আজ ১৪ জুন ২০২৬ তারিখে একটি প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়েছে যে কক্সবাজারের টেকনাফে বাংলাদেশের কোস্ট গার্ডের এক বিশেষ অভিযানের ফলস্বরূপ মাটির তলে গোপনে রাখা ১০টি সক্রিয় গ্রেনেড, ২৮ রাউন্ড সক্রিয় গুলি এবং ২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন ২০২৬) রাত ১০টার একটু আগে কোস্ট গার্ড স্টেশন টেকনাফ কর্তৃক জাদিমুড়া সংলগ্ন নাফ নদী এলাকায় এই কার্যকর অভিযানটি অনুষ্ঠিত হয়। কোস্ট গার্ডের সূত্র জানায়, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত ও নাফ নদীর সংলগ্ন অঞ্চলে অবৈধ প্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র পাচার রোধ করতে কোস্ট গার্ড সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।এক্ষেত্রে গোপন তথ্য পেয়ে তারা জানতে পারে যে, টেকনাফ থানাধীন জাদিমুড়া নাফ নদী পাড়ে একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বড় পরিমাণ স্বয়ংক্রিয় গোলা ও গ্রেনেড মাটির নিচে পাচারের উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ করেছে।
তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার রাতে কোস্ট গার্ডের একটি বিশেষ টিম ওই এলাকায় অভিযান শুরু করে। অভিযানের সময় মাটির নিচে সুনির্দিষ্টভাবে লুকানো অবস্থায়

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ব্যবহৃত ২টি 36M Mk-I হ্যান্ড গ্রেনেড, ৮টি 40 mm HEDP গ্রেনেড এবং ২৮ রাউন্ড ৭.৬২ মি.মি. সক্রিয় গোলা উদ্ধার হয়। সেইসাথে অপর একটি স্থান থেকে ২ কেজি গাঁজাও জব্দ করা হয়।

কোস্ট গার্ডের একটি সূত্র জানায়, অভিযানের সময় তাদের উপস্থিতি বুঝতে পেরে অস্ত্র ও মাদক পাচারকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়, ফলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবুও দেশের অভ্যন্তরে সক্রিয় এই সন্ত্রাসী দলের সদস্যদের গ্রেফতারে কোস্ট গার্ডের গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক সামগ্রী অসৎ ব্যক্তিদের হাতে গেলে বা অন্য কোনোভাবে বিস্ফোরিত হলে, সাধারণ মানুষের জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারতো। কোস্ট গার্ডের এই সময়োপযোগী কার্যক্রমের ফলে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর একটি বড় ধরণের নাশকতামূলক পরিকল্পনা ব্যর্থ করা সম্ভব হয়েছে।

জব্দকৃত গ্রেনেড, সক্রিয় গুলি এবং গাঁজার ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে এবং সীমান্ত এলাকায় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কার্যক্রম রোধে ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান চলতে থাকবে, প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

Exit mobile version