এরশাদ রানা, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধিঃ
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার লিপি আক্তার (৪০) নামের এক নারীর শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত এবং তাঁর স্বামী মো. সুমন (৩০) কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১। প্রাথমিক অনুসন্ধানে গ্রেপ্তার হওয়া সুমন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে র্যাব। শনিবার (৩০ মে) দুপুরে র্যাব-১১ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক এবং ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি অধিনায়ক সিনিয়র এএসপি মিঠুন কুমার কুণ্ডু সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, উপজেলা সদরের নোয়াপাড়া এলাকায় লিপি আক্তার একা ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তাঁর তিন ছেলে ও একটি মেয়ে রয়েছে। ঈদুল আজহার দিন, ২৮ মে, অপরাহ্নে লিপির মেয়ে মায়ের সঙ্গে দেখা করে শ্বশুরবাড়ির দিকে চলে যান। পরদিন সকালে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে খবর পাওয়ার পর তিনি মায়ের বাসায় এসে খাটের ওপর মা লিপি আক্তারের মৃতদেহ দেখতে পান।
এই ঘটনায় নিহতের মেয়ে একজন বাদী হয়ে বুড়িচং থানায় অপরিচিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর থেকেই ঘটনার উদঘাটন এবং আসামিদের ধরার জন্য র্যাব কাজ শুরু করে।তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন খবরের সহায়তায় শনিবার (৩০ মে) ভোররাতে র্যাব-১১ সিপিসি-২ এবং র্যাব-১ এর যৌথ অভিযানে গাজীপুর সদর থানার ধীরাশ্রম বুড়ি বটতলা এলাকা থেকে মো. সুমনকে আটক করা হয়। এ সময় অভিযুক্তের কাছ থেকে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দৃষ্ট হয়, আটক সুমন একজন মাদকাসক্ত। লিপি আক্তার তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন। ঘটনার রাতে তিনি লিপি আক্তারের বাসায় ছিলেন। পরদিন ভোরে নিহতের মোবাইল ফোন নিয়ে তিনি চলে যাওয়ার চেষ্টা করলে লিপি বাধা দেন। তাঁদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। এক পর্যায়ে সুমন লিপিকে বিছানায় ফেলে বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।
হত্যার পরে সুমন গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপন করেন এবং বিভিন্ন স্থানে চলে যান। পরে র্যাবের অভিযানে তাঁকে ধরা হয়।
র্যাব জানায়, আটক আসামিকে বুড়িচং থানায় হস্তান্তর করা হবে এবং তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

