Site icon দৈনিক নবদিগন্ত

কুরবানির ঈদকে ঘিরে নাসিরনগরের কামার পল্লীগুলোতে বেড়েছে হাতুরির টুং টাং শব্দ

কুরবানির ঈদকে ঘিরে নাসিরনগরের কামার পল্লীগুলোতে বেড়েছে হাতুরির টুং টাং শব্দ

মোঃ সাইফুল ইসলাম, নাসিরনগর প্রতিনিধিঃ

পবিত্র ঈদুল আজহা কোরবানির ঈদ যত বেশি কাছে আসছে, ততই কামার পল্লীর কাজকর্মের তীব্রতা বাড়ছে। নাসিরনগর উপজেলার বিভিন্ন কামার পল্লীতে প্রবেশ  করলেই  শক্তিশালী  হাতুরির  আওয়াজে  পুরো এলাকা মুখর হয়ে উঠছে। সারা বছর বেশিরভাগ সময় অলস কাটলেও, ঈদুল আজহার কুরবানির ঈদ আসার পূর্বে কাজের চাপ অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।

কামারপাড়ার বিভিন্ন দোকানে গিয়ে দেখা যায়, কামাররা প্রচুর পরিশ্রম করে দা, বটি, চাপাতি ও অন্যান্য মাংস কাটার যন্ত্র বানাচ্ছেন। কোরবানির মাংস প্রক্রিয়াজাত করার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনতে ক্রেতাদের ভিড় বেশি হচ্ছে।
মাংস কাটার উপকরণ কিনতে আসা স্থানীয় ব্যক্তি সাইফুল ইসলাম প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, ‘বাজারে নানারকম ছুরি পাওয়া যায়, কিন্তু সেগুলো দীর্ঘস্থায়ী নয়। কামারদের তৈরি লোহার দা-বটি এবং ছুরিগুলো অনেক বেশি মজবুত এবং তাদের মানও ভালো। কিন্তু এবারে দামের ক্ষেত্রে কিছুটা বৃদ্ধি ঘটেছে।’

আরেক ক্রেতা রতন মিয়া বলেছেন, ‘কোরবানির ঈদের সময় কাছাকাছি এসেছে। তাই আমি আগে থেকেই দা, চাপাতিসহ আরও প্রয়োজনীয় জিনিসগুলি কিনতে এসেছি। ঈদের সময় প্রচুর ভিড় হয়, তাই সময় বাঁচানোর জন্য আগেই আসতে হয়েছে।’

বিক্রেতাদের মতে, ‘একটা দা-বটি বা ছুরি তৈরি করতে অনেক ব্যয় হয়, কিন্তু সেই তুলনায় উপযুক্ত দাম পাওয়া যায় না। তাছাড়া এখন বিদেশি দা-বটি, ছুরি বাজারে এসেছে, যেগুলোর কারণে আমাদের বিক্রিতে প্রভাব পড়েছে। তবুও ঈদের জন্য কিছুটা বিক্রি বেড়েছে। নিত্যপ্রয়োজনে পণ্য ও কৃষি যন্ত্রপাতির আধুনিক হওয়ার কারণে আমাদের পণ্যের চাহিদা কমেছে। প্রতিবছর কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে লোহা ও কয়লার দাম বাড়ে। খরচের বৃদ্ধি হলেও আমাদের আয় বৃদ্ধি পায়নি।’

এভাবেই কুরবানির ঈদ সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গে কামারপাড়া এর কর্মযজ্ঞে জমে উঠেছে। আধুনিকতার দাপটে এই শিল্প কিছুটা পিছিয়ে পড়লেও, কুরবানির ঈদ এলে এই প্রাচীন পেশায় কিছুটা গতি ফিরে আসে।

Exit mobile version