এরশাদ রানা, কুমিল্লা:
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল রেলস্টেশনে ভারতীয় চোরাচালান ও মাদক পাচারের চিত্র ধারণ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন।
এইঘটনাকালীন তাদেরকে মারধর করে মোবাইল এবং নগদ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ১০টা ৩০ মিনিটের দিকে শশীদল রেলস্টেশনের ঘটনা ঘটে।
হামলায় আহত সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন দৈনিক কালের কণ্ঠের বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া প্রতিনিধি আক্কাস আল মাহমুদ (হৃদয়) এবং কুমিল্লা প্রতিদিন পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলাম (সুমন)। তারা রাতে ব্রাহ্মণপাড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
ঘটনার পর বুধবার বিকেলে পুলিশ হামলায় জড়িত এক ব্যক্তিকে মো. কবির হোসেন (৩৫) গ্রেফতার করেছে।
তিনি দক্ষিণ শশীদল গ্রামের হোসেন মিয়ার পুত্র। থানায় জমা দেয়া অভিযোগ ও ভুক্তভোগীদের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের দিকে চলে যাওয়া ‘চট্টলা এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি শশীদল স্টেশনে পৌছানোর সাথে সাথে চোরাচালানকারী একটি গ্রুপ ট্রেনের ভেতর অবৈধ ভারতীয় পণ্য ও মাদক সন্নিবেশ করতে শুরু করে। মোবাইল ফোনে এই ঘটনার ভিডিও করতে গেলে কবির হোসেন, পারুল আক্তার এবং রাসেলসহ ১২ থেকে ১৪ জনের একটি সঙ্গবদ্ধ দল সাংবাদিকদের উপর হামলা শুরু করে। এরপর সাংবাদিকরা মোটরসাইকেলে পালানোর চেষ্টা করলে স্টেশনের বাইরেও তাদের আবার আক্রমণ করা হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিলে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে হামলাকারীরা তাদের মোবাইল ফোন এবং নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়। আহত দুই সাংবাদিক একটি স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, শশীদল বিজিবি ক্যাম্প থেকে মাত্র ১০০ গজের ব্যবধানে অবস্থিত রেলস্টেশনটিতে দীর্ঘ সময় ধরে ভারতীয় চোরাচালান ও মাদকের মোকাবিলা হচ্ছে।
বেশ কিছু সংঘবদ্ধ চক্র প্রশাসন ও পুলিশের দুর্নীতিপূর্ণ কর্মকর্তাদের সহায়তায় সীমান্ত এলাকা থেকে অবৈধ পণ্য নিয়ে এসে ট্রেনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, ট্রেন স্টেশনে যখন প্রবেশ করে, তখন আচমকা বিদ্যুৎ চলে যায় এবং ট্রেন ছাড়ার পর আবার বিদ্যুৎ ফিরে আসে—এই অন্ধকারের সুযোগে পাচারকারীরা মালামাল নিয়ে যায়।
সম্প্রতি স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. জসীম উদ্দিন মাদক এবং চোরাচালানের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করে সীমান্ত এলাকায় অভিযান শুরুর পরও পাচার বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পূর্বে আসন্ন কোরবানির ঈদের কারণে পাচারকারীদের কার্যক্রম বেড়ে গেছে বলেও জানা যায়। আক্রান্ত সাংবাদিক আক্কাস আল মাহমুদ জানান, দীর্ঘ সময় ধরে চলমান অভিযোগের প্রেক্ষিতে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে তারা দেখেন যে অবৈধ পণ্যের কারণে সাধারণ যাত্রীরা ট্রেনে উঠতে পারছেন না।
ভিডিও ধারণের সময় তাদের উপর দা হামলা করা হয়। তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি জানাতে গেলে শশীদল বিওপি ক্যাম্পের কমান্ডার হামলাকারীদের সাথে ছিলেন এবং মন্তব্য করতে রাজি হননি।
শশীদল রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার আবু তাহের সরকার বলেন, চোরাকারবারিদের কারণে স্টেশনে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়েছে এবং যাত্রীদের জন্য উঠানামায় প্রচণ্ড ভোগান্তি হচ্ছে। তিনি সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাটি নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের বিচার দাবি করেন। ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক হোসেন জানালেন, সাংবাদিকদের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
মামলা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

