এরশাদ রানা, কুমিল্লা:
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে দেবর তানিম মজুমদার বিয়ের লোভ দেখিয়ে ভাবিকে ধর্ষণ করেছে। ঘটনার পর দায়ের করা মামলায় একমাত্র আসামী দেবর তানিমকে পুলিশ গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছে।
এই অঞ্চলের বাতিসা ইউনিয়নের উল্লাপাড়া মজুমদার বাড়িতে এবং পৌর এলাকার লক্ষীপুর গ্রামের একটি ভাড়া বাসায় ধর্ষণের পৃথক ঘটনা ঘটেছে। তানিম উল্লাপাড়া এলাকার মৃত ফজলুল করিম মজুমদারের পুত্র।
রোববার বিকেলে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন থানার উপ-পরিদর্শক নুর নবী।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, উল্লাপাড়া গ্রামের তুহিন মজুমদার ৫-৬ বছর আগে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী যগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের কেছকিমুড়া গ্রামের শান্তা আক্তারের (ছদ্মনাম) সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের তিন বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। জীবিকার জন্য তুহিন মজুমদার বিদেশে চলে যান। স্বামীর অভাবে শান্তা আক্তার সংসারের প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে দেবর তানিমকে ব্যবহার করতেন।
এই সুযোগ নিয়ে তানিম মজুমদার সময়ে সময়ে ভাবি শান্তা আক্তারকে বিভিন্ন রকমের প্রলোভন দিয়ে বিয়ের কথা বলে।
এর মধ্যে গত বছরের ১০ অক্টোবর রাতে উল্লাপাড়ায় স্বামীর ঘরে শান্তাকে শারীরিকভাবে জড়িত করে (ধর্ষণ)। তানিম বিভিন্ন সময়ে শান্তা আক্তারকে ধর্ষণ করতে থাকে। কিছুদিন পর তানিম প্রবাসে চলে যায়।
ঘটনার চার মাস পরে শান্তা আক্তার অসুস্থ হলে চৌদ্দগ্রামের একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে পরীক্ষা করতে গেলে জানা যায় সে গর্ভবতী। মোবাইল মারফত দেবর তানিমকে জানানোর পর সে দেশে এসে বিয়ে করবে এবং গর্ভজাত সন্তানের দায়িত্ব নেবে বলেও জানায়।
স্বামী বিদেশে থাকাকালীন শান্তা আক্তার গর্ভবতী হয়ে পড়ায় সামাজিক লজ্জার কারণে দেবরের কথা শুনে পৌর এলাকার লক্ষীপুর গ্রামের একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস শুরু করে।
দেবরের বিয়ের প্রলোভনের কারণে চলতি বছরের ১২ এপ্রিল বৈধ স্বামী তুহিন মজুমদারকে তালাক দেয় শান্তা আক্তার। ৯ মে তানিম ছুটিতে দেশে এসে আবারও শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে এবং ভাড়া বাসা থেকে চলে যায়। তানিমকে বিয়ের ব্যাপারে প্রশ্ন করলেও সে সময় নষ্ট করতে থাকে।
পরে আবার ক্লিনিকে পরীক্ষা করানো হলে জানা যায়, শান্তা ৭ মাসের অন্তঃসত্তা। শেষ পর্যন্ত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে তানিম মজুমদারের বিরুদ্ধে মামলা করতে বাধ্য হন শান্তা আক্তার।
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার উপ-পরিদর্শক নুর নবী রোববার বিকেলে জানান, ভুক্তভোগী মহিলা যখন দেবর তানিম মজুমদারের বিরুদ্ধে মামলা করেন, তার কিছুক্ষণের মধ্যে আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল আসলে পুরো ঘটনার রহস্য উন্মোচন হবে।

