এরশাদ রানা, কুমিল্লা:
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় আবুল কালাম মজুমদারের বিরুদ্ধে ভুয়া সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে মানুষকে ব্ল্যাকমেইল করা ও চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার সাংবাদিক হিসেবে পরিচিতি দিয়ে বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করছেন।
চৌদ্দগ্রাম প্রেস ক্লাবের ফেসবুক পোস্ট থেকে জানা যায়, আবুল কালাম মজুমদার পূর্বে লালমাই উপজেলায় একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে প্রায় তিন বছর আগে চাঁদাবাজির কারণে তিনি একাধিকবার জনরোষের শিকার হন, এরপর সংশ্লিষ্ট পত্রিকার পরিচয়পত্র বাতিল করে দেয়া হয়। এরপর তিনি এলাকা ছেড়ে চলে যান।
পরে চৌদ্দগ্রামে ফিরে এসে আবারও সাংবাদিক পরিচয়ে বিভিন্ন জায়গায় সক্রিয় হন বলে অভিযোগ রয়েছে। Muhammad Arshad Rana নামের একটি ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ থেকে জানা যায়, আবুল কালাম মজুমদার নিজেকে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার সাংবাদিক হিসেবে দাবি করছেন, যা সংশ্লিষ্ট অফিসের নজরে এসেছে। এছাড়া প্রতিদিন তিনি জেলা উপজেলার বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করে চলেছেন। বিশেষ করে ভিডিও ধারণ করে মানুষের উপরে ব্ল্যাকমেইল করার অভ্যাস তার হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক মাসে অন্তত দুটি ঘটনার পর জনতা তাকে আটক করে মারধর ও লাঞ্ছনা করেছে। তবে প্রশাসনের কাছ থেকে এসব ঘটনার বিরুদ্ধে দৃষ্টিগোচর কোনও ব্যবস্থা হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
অভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে তিনি মাটি কাটার কাজে বিভিন্ন স্থানে চাঁদা দাবি করছেন। যারা চাঁদা দিতে অস্বীকার করছেন, তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছেন এবং অনুমোদনহীন পত্রিকার নাম ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন। পাশাপাশি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেশের শীর্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে সমালোচনা করারও অভিযোগ রয়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে।
এ বিষয়ে সচেতন মহলকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে কুমিল্লা জেলার একাধিক সাংবাদিক। আহ্বানে জানানো হয়েছে, আবুল কালাম মজুমদারের মাধ্যমে কেউ যদি চাঁদাবাজির শিকার হন তবে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্থানীয় স্বীকৃত গণমাধ্যমের কর্মীদের জানানোর জন্য। পাশাপাশি দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার কর্তৃপক্ষকেও অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

