Site icon দৈনিক নবদিগন্ত

আলীকদমে হামের প্রাদুর্ভাব: ৩১ শয্যার হাসপাতালে শতাধিক রোগী, কুরুকপাতায় চরম সংকট

আলীকদমে হামের প্রাদুর্ভাব: ৩১ শয্যার হাসপাতালে শতাধিক রোগী, কুরুকপাতায় চরম সংকট

মো: রেজাউল করিম, আলীকদম (বান্দরবান):

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে কুরুকপাতা ইউনিয়নে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় ৩১ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, গত এক সপ্তাহে প্রায় ৭০ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। শয্যা সংকটের কারণে অনেককে মেঝে ও বারান্দায় রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আক্রান্তদের অধিকাংশই ১ থেকে ১০ বছর বয়সী ম্রো ও মারমা সম্প্রদায়ের শিশু।

কুরুকপাতা এলাকায় সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় একটি অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে আক্রান্তদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ চলছে। জেলা সিভিল সার্জন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সার্বক্ষণিক চিকিৎসক দল কাজ করছে।

কুরুকপাতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ক্রাতপুং ম্রো জানান, দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা ও চিকিৎসা সেবার ঘাটতির কারণে ইতোমধ্যে কয়েকটি শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যা এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পাহাড়ি দুর্গমতার কারণে হাসপাতালে যাতায়াত ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য। মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় জরুরি যোগাযোগও ব্যাহত হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগের মতে, টিকাদান কর্মসূচির সীমাবদ্ধতা ও সচেতনতার অভাবেই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, অতিরিক্ত মেডিকেল টিম ও ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে। সেনাবাহিনী দুর্গম এলাকা থেকে রোগী পরিবহন ও চিকিৎসা সহায়তা দিচ্ছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতায় প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

“ম্রো ইয়ুথ অর্গানাইজেশন”-এর সভাপতি সেথং ম্রো জানান, আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে এবং শতাধিক শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। তিনি বলেন, প্রশাসন ও সংগঠন মিলে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. হানিফ চৌধুরী বলেন, “হাসপাতালের ধারণক্ষমতার বাইরে রোগী বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। শয্যা সংকট, জনবল ঘাটতি এবং দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।”

Exit mobile version