প্রিন্ট এর তারিখ: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬, ১২:৩৪ এ.এম. || প্রকাশের তারিখ: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬, ১০:৩৫ পি.এম.

কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের সাথে সাক্ষাৎ ও ফোনের রেসপন্স কোনোটিই মিলছে না

এরশাদ রানা (কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি):

শচীন দেব বর্মণের ১২৫বছরের কুমিল্লায় সদ্য নিযুক্ত রয়েছেন জেলা প্রশাসক রোজী আকতার।তিনি এই জেলায় দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকে সাংবাদিক ও সচেতন মহলকে কোনো মূল্যায়ন করছেন না।একই সাথে সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষকেও করছেন অবমূল্যায়ন,যেখানে কোনোক্রমেই মিলছে না সাক্ষাৎও ফোনের রেসপন্স।

এমন অভিযোগ উঠেছে জেলায় কর্মরত অর্ধডজন সাংবাদিকও সচেতন মহল থেকে।তবুও যেন টনক নড়ছে না জেলা প্রশাসক রোজী আকতারের।স্হানীয় এক গণমাধ্যমকর্মী জানান জুলাই ২৬এর ১৫তম দিন থেকে ১মাস ১৩দিন গড়িয়ে গেলেও সাক্ষাৎ করতে পারেনি কুমিল্লার এই জেলা প্রশাসকের সাথে।যতবারই তার কার্যালয়ে যাওয়া হয়েছে ততবারই মলিন মুখ নিয়ে ফিরতে হয়েছে।

শর্ত রয়েছে জেলার এই প্রশাসকের সাথে স্বাক্ষাৎ করতে হলে পার্শ্ববর্তী কক্ষে বসা সহকারী কমিশনার (গোপনীয় তথ্যও অভিযোগ)ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট রাফিদ খাঁন এর নিকট পরিচয় প্রদান করতে হবে এবং ভিজিটিং কার্ড দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে।এসব শর্তসমূহ রাফিদ খাঁনের নিকট প্রেরণ করা হলে তিনি আগত দর্শনার্থী কিংবা সাংবাদিকদের অপেক্ষা করার জন্য নির্দেশ দেন।এরপর টানা ২/৩ঘন্টা সময় পেরিয়ে গেলেও সেই রাফিদ খাঁনকে আর খুঁজে পাওয়া যায় না।জেলা প্রশাসক কি বলছেন,দেখা করা সম্ভব হবে কিনা,কিংবা আজকে দেখা করবেন না এমন কোনো উত্তর-ই পূনরায় আসে না।

কুমিল্লার ইতিহাসে এমন নজিরবিহীন কার্য্যত অতীতে কখনো হয়নি,বহু জেলা প্রশাসক এই আসন থেকে বিদায় নিয়েছেন,কেউ কেউ অতিরিক্ত ত্যাগের পরিচয় দিলেও সচেতন মহলের প্রতি ছিল বিনয়ী আচরণও সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন।কিন্তু আজ সেই কৃতিত্ব প্রায়ই বিলুপ্তির পথে।

তবে লক্ষ্য করা গেছে বিভিন্ন সভা সমাবেশের অনুষ্ঠানস্হলে জেলা প্রশাসক রোজী আকতার স্হানীয় এমপি ও রাজনৈতিক নেতাদের আগেই উপস্হিত হয়ে থাকেন,এটিও তার জন্য একটি বড় কৌশলও পুঁজি মনে করছেন জেলার সচেতন মহল।স্হানীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী, কৃষিমন্ত্রী হাজী আমিন-উর রশিদ ইয়াছিন, গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন,কুসিকের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু,জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া সহ প্রথম সাড়ির নেতাদের আস্হা অর্জন করলেও সাংবাদিকও সচেতন মহলের কাছে তিনি এখনো প্রশংসার দাবিদার হতে পারেননি।

সরকারের ইশতেহারে ঘোষিত ছিল এদেশের প্রতিটি মানুষ সকল ক্ষমতার উৎস কিন্তু কুমিল্লা জেলা প্রশাসক এর ডিকশনারিতে সম্ভবত লিপিবদ্ধ রয়েছে স্হানীয় এমপি/মন্ত্রীরাই সকল ক্ষমতার উৎস।তাই তিনি জেলার সাংবাদিক ও সচেতন মহলকে অবমূল্যায়ন করছেন।

জেলা প্রশাসক রোজী আকতার এর প্রতি মানুষের এতো অনিহা ও অভিযোগ কেন জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড.মোঃ জিয়াউদ্দিন বলেন ভাই আমি কি করতে পারি আপনি যতবার আমাকে ফোন দিয়েছেন ততবারই আমি রিসিভ করে আপনাকে বলেছি মিটিংয়ে আছি কিংবা একটু পরে কথা বলি।কিন্তু কুমিল্লার ডিসি কেন এমনটি করছেন আমার জানা নেই,তবে আমি তাকে এই প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে বলে স্যার আমি সকলের সাথে যোগাযোগ করছি যথাসময়ে ফোন রিসিভ করছি,এই ধরণের কোনো সমস্যা নেই।পরে বিভাগীয় কমিশনার বিষয়টি পর্যালোচনা করে জানাবেন বলে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।