প্রিন্ট এর তারিখ: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬, ১২:০০ এ.এম. || প্রকাশের তারিখ: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬, ১০:২৯ পি.এম.

সরকারি সময়েই বিদ্যালয় তালাবদ্ধ, টেকনাফে ১১ শিক্ষককে শোকজ

মোহাম্মদ হোসাইন ,টেকনাফ (কক্সবাজার):

কক্সবাজারের টেকনাফে নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে চলে যাওয়ার অভিযোগে দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১১ শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে বিদ্যালয় দুটি তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পাওয়ার পর এ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন টেকনাফ উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু নোমান মো. আবদুল্লাহ।

শোকজ পাওয়া বিদ্যালয় দুটি হলো—হোয়াইক্যং ইউনিয়নের হরিখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও লাতুরীখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয় দুটির প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন আলী আকবর সাজ্জাদ ও নাসিমা আক্তার।

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টেকনাফের কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি না থাকা এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় ছুটি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে গত বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের বিদ্যালয় দুটিতে আকস্মিক পরিদর্শনে যান টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী।

পরিদর্শনকালে ইউএনও বিদ্যালয় দুটির কোনো শিক্ষক, কর্মচারী কিংবা শিক্ষার্থীকে উপস্থিত পাননি। এ সময় সবগুলো শ্রেণিকক্ষ তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান তিনি। সরকারি কর্মঘণ্টায় বিদ্যালয় বন্ধ রাখার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন ইউএনও। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সশরীরে তাঁর কার্যালয়ে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে টেকনাফ উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু নোমান মো. আবদুল্লাহ ১১ শিক্ষকের নামে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেন। নোটিশে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে কর্তব্যে অবহেলার বিষয়ে উপযুক্ত কারণ ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে জবাব সন্তোষজনক না হলে তাঁদের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, “দুই বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের শোকজ করার জন্য স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিন দিনের মধ্যে তাঁদের দেওয়া জবাব যুক্তিযুক্ত ও সন্তোষজনক না হলে বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু নোমান মো. আবদুল্লাহ বলেন, “শিক্ষকদের অনিয়মিত আসা-যাওয়া এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়ার পর ইউএনও স্যার সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। ১১ শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, এ ধরনের প্রশাসনিক পদক্ষেপের ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শৃঙ্খলা আরও জোরদার হবে।”