প্রিন্ট এর তারিখ: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬, ৪:১৮ এ.এম. || প্রকাশের তারিখ: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬, ১:৫৫ এ.এম.

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দক্ষতা উন্নয়নে কারিগরি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু

মোহাম্মদ হোসাইন, টেকনাফ (কক্সবাজার):

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দক্ষতা উন্নয়ন ও টেকসই জীবিকার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে কারিগরি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আত্মনির্ভরতা তৈরির উদ্দেশ্যে ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাসের সহযোগিতায় ইমপ্যাক্ট ইনিশিয়েটিভের উদ্যোগে উখিয়ার ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়।

“Sustainable Opportunities for Livelihoods, Advancement and Resilience (SOLAR)” শীর্ষক এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাল্টিপারপাস বিল্ডিংয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কার্যক্রমটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।

৩১ আগস্ট (সোমবার) আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ক্যাম্প-ইন-চার্জ ও উপসচিব মো. শরিফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইমপ্যাক্ট ইনিশিয়েটিভের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. এনায়েত হোসেন।

SOLAR কার্যক্রমের আওতায় ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ৩২৫ জন আগ্রহী প্রশিক্ষণার্থীকে বিভিন্ন কারিগরি ও পেশাভিত্তিক বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণের বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে—টেইলারিং অ্যান্ড ড্রেস মেকিং, ব্লক-বাটিক, মোবাইল ফোন সার্ভিসিং, গ্যাস বার্নার রিপেয়ারিং এবং ক্লাইমেট-স্মার্ট এগ্রিকালচার।

এ ছাড়া ৬৭৫ জনকে সফট স্কিল প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের যোগাযোগ দক্ষতা, দলগত কাজ, সমস্যা সমাধান, কর্মক্ষেত্রের আচরণসহ প্রয়োজনীয় জীবন ও কর্মদক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য মানবিক সহায়তার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন ও জীবিকাভিত্তিক প্রশিক্ষণ তাদের আত্মনির্ভরতা ও সহনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীরা ভবিষ্যতে আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন।

প্রধান অতিথি মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, “দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ জীবিকার জন্য তাদের প্রস্তুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ ধরনের বাস্তবমুখী উদ্যোগ তাদের আত্মনির্ভরতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।”

ইমপ্যাক্ট ইনিশিয়েটিভের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. এনায়েত হোসেন বলেন, “চীনা দূতাবাসের সহযোগিতায় ইমপ্যাক্ট ইনিশিয়েটিভ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য বাস্তবমুখী দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করতে কাজ করছে। SOLAR কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের এমন কিছু দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যা তাদের আত্মনির্ভরতা, জীবিকা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।”

ইমপ্যাক্ট ইনিশিয়েটিভের উদ্যোগে এবং চীনা দূতাবাসের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত SOLAR কার্যক্রমের মাধ্যমে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দক্ষতা, জীবিকা ও সহনশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের আরও আত্মনির্ভর করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করা হবে।