প্রিন্ট এর তারিখ: অক্টোবর ১৮, ২০২৬, ১২:০৪ এ.এম. || প্রকাশের তারিখ: আগস্ট ২১, ২০২৬, ১২:১৪ এ.এম.

কুমিল্লার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ-চাঁদাবাজির অভিযোগ

এরশাদ রানা, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধিঃ

প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় শিক্ষা পদক অনুষ্ঠানের নাম দিয়ে জেলা জুড়ে প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে চাঁদা আদায়, দাপ্তরিক কাজে ফাইল সইয়ের সময় কাজ অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন রেটে ঘুষ গ্রহণ, অনিয়ম ও দুর্নীতিতে সিন্ডিকেট গঠন, বিভিন্ন উপজেলায় গিয়ে সুন্দরী নারী শিক্ষিকাদেরকে ডেকে আনা, কর্মকর্তাদের সাথে খারাপভাবে আচরণ করার মতো বহু অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনসুর আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে।

বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে জানা গেছে, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনসুর আলী চৌধুরী কুমিল্লায় যোগ দেয়ার পর জেলা শিক্ষা অফিস ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্নীতির জায়গায় পরিণত করেছেন। তার অধীনস্থ সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মামুন, কর্মকর্তা কর্মচারী জাকির, সানোয়ার, শহিদুল্লাহ, সাত্তারসহ কিছুজনকে নিয়ে একটি সিন্ডিকেট গঠন করেন এবং এ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তিনি নানা অনৈতিক কাজ করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তারা জানান, আমাদের স্যার এলপিআর ফাইল সইয়ে দুই হাজার টাকা, পেনশন ফাইলে তিন হাজার টাকা, জিপিএফ লোনে এক হাজার টাকায় ফাইল সই করেন। প্রতিটি ফাইলকে ভিন্ন ভিন্ন রেটে ঘুষ নিয়ে সই করেন। এছাড়াও চৌদ্দগ্রামের একজন স্কুল শিক্ষিকা ইতালিতে থেকেও চাকুরির সরকারি টাকা গ্রহণসহ অনিয়মের অভিযোগে মনসুর আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে পাঁচ লক্ষ টাকা ঘুষ নেওয়ার, এবং নাঙ্গলকোটের আরেক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার তদন্তের রিপোর্ট তার জন্য দেয়ার নামে দুই লক্ষ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জাতীয় শিক্ষা পদক অনুষ্ঠানের জন্য জেলার প্রতিটি উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে চার হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগও উঠেছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। বিভিন্ন স্কুলের সুন্দরী নারী শিক্ষিকাদের লক্ষ্যে রেখে নির্ধারিত সময়ের পরে স্কুলে মিটিংয়ের নামে আসর বসানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিদ্যালয়ে মিটিংয়ের নামে আনন্দ, বিনোদন ও জলসার আয়োজন করেন এই শিক্ষা কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিছু শিক্ষিকা এমন আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। অর্থনৈতিক দুর্নীতি ও নৈতিক অবক্ষয়ের পাশাপাশি গণমাধ্যম কর্মীরা তাঁর ক্ষতিকারক কাজ সম্পর্কে কেন জানলেন তা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।

পুরো বিষয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি বিভিন্ন স্কুলে মিটিং বা সরকারি কাজের জন্য থাকতে পারি, সে কারণে অনেক জায়গায় অনুষ্ঠানের জন্য সময় লেগেছে। আমার বিরুদ্ধে যদি কোন অভিযোগ থাকে, তাহলে আমার উপরে মহল জানবে, কিন্তু সাংবাদিকদের কে এ বিষয়ে জানালো তাদের নাম জানতে চাই? এমন প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন তিনি। বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করতে চাইলে তিনি বারবার বিষয়টি এড়িয়ে যান, তার অফিস কর্মকর্তাদের রুমে আসতে বললে কেউই তার কক্ষে আসেননি এবং তার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।

এ বিষয়ে একটি বক্তব্য নিতে চাইলে চট্টগ্রাম বিভাগের উপ পরিচালক মো: নুরুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন নেননি, তাই তার বক্তব্য জানা যায়নি।