কুমিল্লায় সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা আয়োজিত হয়েছে। শনিবার ৮ আগস্ট সকাল ১১টায় জেলার কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউটের ২য় তলায় এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন কুমিল্লা জেলা প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত দপ্তর সম্পাদক ওমর ফারুক তাপস।
প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু। প্রধান বক্তা ছিলেন কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি এবং বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর।
এসময় প্রধান অতিথি (কুসিকের) প্রশাসক বলেন, কুমিল্লায় যদি কোনো সাংবাদিক সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলা, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হন, আমাকে জানান। আমি সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির পাশে সবসময় আছি এবং থাকবো। এই জেলায় একজন সাংবাদিকও নির্যাতন হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই, তবে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্বকে সম্মানের সঙ্গে পালন করতে হবে, সেদিকে সংগঠনকে সচেষ্ট থাকতে হবে। পরে সভায় প্রধান বক্তা আহমেদ আবু জাফর বলেন, আগামী নভেম্বরের মধ্যে সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা প্রয়োজন, অন্যথায় আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে আইন প্রণয়নে বাধ্য করার হুঁশিয়ারীও দেন। সাংবাদিকরা চাইবেন ভালো সংবাদ, অথচ তাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা দেবেন না—এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সাংবাদিকদের জন্য কোনো সরকারই কার্যকরভাবে কিছু করেনি। জাতির বিবেক হিসেবে পরিচিত সাংবাদিকদের গত ৫৫ বছর ধরে বিভিন্ন আশ্বাস দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন- সাংবাদিক সুরক্ষা আইন, সাংবাদিক নিয়োগ নীতিমালা প্রণয়ন এবং সাংবাদিকদের তালিকা তৈরির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপে সরকারের সদিচ্ছার অভাব রয়েছে। পেশার অস্তিত্ব ও মর্যাদা রক্ষায় দ্রুত গণমাধ্যম কমিশন গঠন করে সাংবাদিকতা অঙ্গনকে ঢেলে সাজানোর প্রয়োজন। দেশে সাংবাদিক নির্যাতনের মাত্রা মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে, সাংবাদিক হত্যার মতো গুরুতর মামলাগুলোরও সঠিক বিচার হচ্ছে না। অনেক আসামী জামিনে বের হয়ে যাচ্ছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এপর্যন্ত ৫৩ জন সাংবাদিক হত্যা হয়েছেন, তবে অধিকাংশ হত্যার বিচার সম্পন্ন হয়নি। সাংবাদিকদের প্রতি এমন অবহেলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি কুমিল্লা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বি. এম মহিউদ্দিন মন্টির সঞ্চালনায় সভার কার্যক্রম শুরু হয়। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আবুল হাসনাত বাবুল, নবনির্বাচিত সভাপতি এনামুল হক ফারুক, সিনিয়র সাংবাদিক সহিদুল্লাহ, প্রেসক্লাবের সাবেক আহ্বায়ক নীতিশ সাহা, দৈনিক ইনকিলাবের স্টাফ রিপোর্টার সাদিক মামুন, কুমিল্লার জমিন পত্রিকার সম্পাদক শাহজাদা এমরান এবং দৈনিক সমাজ কণ্ঠের সম্পাদক জসিম উদ্দিন চাষী।
এছাড়া শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে রাসেল, কেন্দ্রীয় নেতা কাজী সালাহ উদ্দিন নোমান, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের নেতা সিকান্দার আলী কাবুল এবং কেন্দ্রীয় নেতা ফাতেমা আক্তার।
অনুষ্ঠানে নবগঠিত কুমিল্লা জেলা সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির ১১১ সদস্যের কার্যকরী পর্ষদ ও সদস্যদের পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতির বক্তব্যের পর সাংগঠনিক রুপরেখা তুলে ধরেন জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক।
এসময় মাঠপর্যায়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে হামলা, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হওয়া ১০ জন সাংবাদিককে সম্মাননা স্মারক দিয়ে মূল্যায়ন করা হয়। পরে সভাপতির বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।