‘জুলাই অভ্যুত্থান দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার ঐতিহাসিক দলিল’ — অধ্যক্ষ আনোয়ারী
কক্সবাজারের টেকনাফে গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ১১ দলীয় ঐক্য গণমিছিল ও সমাবেশ করেছে। বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেল ৩টায় টেকনাফ পৌরসভার ঈদগাহ মাঠ থেকে গণমিছিল শুরু হয়ে প্রধান সড়ক ঘুরে মিল্কি রিসোর্টের সামনে সমাবেশে মিলিত হয়। কক্সবাজার জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী গণমিছিলে নেতৃত্ব দেন। এছাড়া ১১ দলীয় ঐক্যের উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারাও গণমিছিল ও সমাবেশে ছিলেন।
গণমিছিল-পরবর্তী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কক্সবাজার জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী বলেন, “বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার একটি ঐতিহাসিক দলিল হলো জুলাই। আগস্টে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু কেউ সফল হয়নি। যারা জুলাইকে মুছে ফেলতে চাইবে, তারা ইতিহাস থেকে হারিয়ে যাবে।”
তিনি আরও বলেন, “সরকারের প্রতি আমাদের আহ্বান—পুরোনো ফ্যাসিবাদের পথে না গিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা রক্ষা করুন এবং শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে গণরায়ের প্রতি সম্মান দেখান। একই সাথে জুলাই গণহত্যার সাথে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করা উচিত। জুলাইয়ের চেতনায় নতুন বাংলাদেশ নির্মাণ ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের ব্যাপারে আপস করা চলবে না।”
মিছিল-পরবর্তী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন টেকনাফ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা রফিকুল্লাহ। উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ও যুব বিভাগের সভাপতি সরওয়ার কামাল সিকদার এবং পৌর জামায়াতের সভাপতি রবিউল আলমের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কক্সবাজার জেলা জামায়াতে ইসলামীর সমাজকল্যাণ সম্পাদক অধ্যক্ষ নুরুল হোসাইন ছিদ্দিকী।
টেকনাফ পৌরসভার সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র মোহাম্মদ ইসমাইল, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) টেকনাফ উপজেলা প্রধান সমন্বয়ক সায়েম সিকদার, যুগ্ম সিনিয়র সমন্বয়ক বাহা উদ্দিন, উপজেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক ও হ্নীলা ইউনিয়ন আমীর মাওলানা গিয়াস উদ্দিন, উপজেলা জামায়াতের অর্থ সম্পাদক ও হোয়াইক্যং ইউনিয়ন আমীর মুহাম্মদ হোসাইন।
সদর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি ও সাবেক জেলা শিবির সভাপতি আব্দুর রহিম নূরী, টেকনাফ উপজেলা শিবিরের সভাপতি শাহ কামাল শাফি, বাহারছড়া ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মোহাম্মদ ইসলাম, জাতীয় নাগরিক পার্টির কক্সবাজার জেলা যুগ্ম সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম, যুবশক্তি টেকনাফের আহ্বায়ক আর. কে. রায়হান এবং জিয়াউল হক প্রমুখ।
সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের অন্যান্য নেতারা বলেন, “একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্ন নিয়ে আমাদের সন্তানরা রাজপথে নেমেছে। তাঁদের আত্মত্যাগ দেশ ইতিহাসে উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে। শহীদদের আকাঙ্ক্ষার নতুন বাংলাদেশ গঠিত না হওয়া পর্যন্ত ১১ দলীয় ঐক্য রাজপথে থাকবে।”